অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার যিনি প্রথম বাংলাদেশী নারী হিসেবে ২০১২ সালের ১৯ মে শনিবার সকাল নয়টা ৩০ মিনিটে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন।

নিশাত মজুমদার। হতে চেয়েছিলেন বৈমানিক। কিন্তু হয়ে গেলেন পর্বতারোহী। কাজ করছেন ঢাকার একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে। ভ্রমণের অভ্যাস থেকেই পর্বতারোহণের রোমান্স জাগে নিশাতের। একেতো সমাজে নারীদের চলাফেরা নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা। তার উপর এমন একটি ইচ্ছা পূরণ! বেশ কষ্টসাধ্যই। পাশে পেয়েছিলেন পরিবারকে। তাই সামাজিক কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি নিশাতকে। নিশাত বলেন, “আসলে পরিবার যদি পাশে থাকে, তাহলে যে কোন কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।”
নিশাত মজুমদার
(জন্ম: ৫ জানুয়ারি, ১৯৮১)
নিশাত মজুমদার জন্মেছিলেন ১৯৮১ সালের ৫ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরে। তাঁর বাবার নাম আবদুল মান্নান মজুমদার।
নিশাতের বাবা আবদুল মান্নান মজুমদার একজন ব্যবসায়ী। মা আশুরা মজুমদার, তিনি একজন গৃহিনী। চার ভাইবোনোর মধ্যে নিশাত দ্বিতীয়। থাকেন ঢাকার পান্থপথে।মজুমদার ফার্মগেটের বটমূলী হোম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। বর্তমানে নিশাত ঢাকা ওয়াসায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। একবছর আগে তিনি এই চাকরিতে যোগ দিয়েছেন।
২০১২ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন নিশাত মজুমদার। কাঠমান্ডুতে প্রয়োজনীয় কিছু কেনাকাটা করে ৯ এপ্রিল লুকনা পৌঁছান। এভারেস্টে ১৪টি দিক থেকে ওঠা যায়। তবে প্রধান পথ দুটি। প্রথমটি হচ্ছে নেপালের আর দ্বিতীয়টি হলো তিব্বতের দিক দিয়ে। তিব্বতের দিকের পথ নেপালের তুলনায় সহজ। সেখানে বেস ক্যাম্প পর্যন্ত গাড়িতে যাওয়া যায়। নেপালের দিকটা অনেক বিখ্যাত। এই পথ ধরেই তেনজিং ও হিলারি উঠে ছিলেন। নিশাত মজুমদাররাও নেপালের দিক থেকে যাত্রা শুরু করে। আট দিন ট্র্যাকিং করে বেস ক্যাম্পে পৌঁছান তারা। তারপর এক এক করে বিভিন্ন ক্যাম্প পাড় হয়ে ১৯ মে শনিবার নেপালের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি ২৯ হাজার ২৯ ফুট (৮,৮৪৮ মিটার) উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করেন।
ঢাকা থেকে রওনা শুরু করে এভারেস্ট চূড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে নিশাতদের ৫৮ দিন লেগেছিল। ৯ এপ্রিল কাঠমান্ডু থেকে বেস ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা শুরু করেন সাত দিন হেঁটে ১৫ এপ্রিল তারা বেস ক্যাম্পে পৌঁছান। বেস ক্যাম্প থেকে চূড়ায় যেতে নিশাতদের লেগেছে এক মাস চার দিন। তারপরই আসে সেই আনন্দক্ষণ। যখন রচিত হলো প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারীর এভারেস্ট জয়ের গল্প।
এর আগে ২০১০ সালের ২৩ মে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছিলেন মুসা ইব্রাহিম। এরপর ২০১১ সালের ২১ মে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন এম এ মুহিত। নিশাত বাংলাদেশের তৃতীয় এভারেস্ট বিজয়ী।
বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট জয়ী নিশাত ২০০৩ সালে এভারেস্ট বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া কেওক্রাডং জয় করেন৷ ২০০৬ সালের মার্চে বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে বিএমটিসি আয়োজিত বাংলাদেশের নারী অভিযাত্রী দলের সঙ্গে ফের কেওক্রাডং চূড়ায় ওঠেন তিনি৷ একই বছরের সেপ্টেম্বরে বিএমটিসি আয়োজিত নারী অভিযাত্রী দলের সঙ্গে তিনি এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেকিংয়ে অংশ নেন৷ এরপর ২০০৭ সালের মে মাসে বিএমটিসির অর্থায়নে দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে মৌলিক পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে হিমালয়ের মেরা পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন নিশাত মজুমদার৷ এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে পরের বছরের মে মাসে হিমালয়ের সিঙ্গুচুলি পর্বতশৃঙ্গে ওঠেন৷ নিশাত ২০০৯ সালের এপ্রিলে পৃথিবীর পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাকালুতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ অভিযানে অংশ নেন৷ বিএমটিসি আয়োজিত হিমালয়ের চেকিগো নামের একটি শৃঙ্গেও সফল অভিযানে যান নিশাত৷
সংগৃহীত
(কৃতজ্ঞতা: ডঃ আহমেদ আবদুল্লাহ)