“ভদ্রলোকের দল গড়তে চাই” — সাভারে রুহুল কবির রিজভী
সাভার | ১৭ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি এখন আর শুধু রাজনৈতিক সংগ্রামের দল নয়, এটি হয়ে উঠছে নৈতিক শুদ্ধতার প্রতীক। এ লক্ষ্যেই আজ ১৭ জুলাই সাভারে দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ন কর্মসূচিতে স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন,
> “আমাদের লক্ষ্য—এক কোটি নতুন সদস্য নবায়ন। তবে ফ্যাসিবাদী ও পরাজিত শক্তির কেউই যেন দলে ভিড়তে না পারে। যারা মব কালচার; ডাকাতি, রাহাজানি, চুরি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত; তারা কেউ বিএনপির সদস্য হতে পারবে না।”
রিজভীর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে দলের কাঙ্ক্ষিত রূপান্তরের নীলনকশা—একটি জনভিত্তিক, শৃঙ্খলিত, ও জনবান্ধব রাজনৈতিক কাঠামো, যেখানে স্থান পাবে না ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, গুণ্ডা সংস্কৃতির বাহক কিংবা চাঁদাবাজ বাহিনী।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
> “সমাজে যাঁরা শান্তিপ্রিয়, ভদ্র মানুষ, সজ্জন মানুষ, তাঁরাই হবেন বিএনপির সদস্য।”
এক কোটি সদস্য লক্ষ্যমাত্রা: নতুন মেরুকরণে বিএনপি
দলটি ঘোষিত এক কোটি সদস্য নবায়নের এই কার্যক্রম শুধু সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং এটিকে দেখা হচ্ছে এক ধরনের রাজনৈতিক ফিল্টারিং প্রক্রিয়া হিসেবে—যেখানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অরাজনৈতিক চরিত্রকে বাদ দিয়ে বিএনপি নিজের ভেতরের শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে চায়।
এ যেন এক প্রতিজ্ঞা—”সততা দিয়েই সংগঠন গড়া হবে”।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাভারে ব্যাপক উৎসাহ ও জনসম্পৃক্ততা দেখা গেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা ব্যানার-পোস্টারে রিজভীর বক্তব্য ছড়িয়ে দিয়েছেন, যাতে এক ধরনের নৈতিক সাংগঠনিক জাগরণ তৈরি হয়েছে।
কেন এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এই প্রেক্ষাপটে দলের ভিতরের চরিত্র পরিশুদ্ধ করা, মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত জনমানুষদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মাদক, টেন্ডারবাজি ও গডফাদার কালচারের ছায়া থেকে মুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্য তাই শুধু একটি সাধারণ বক্তৃতা নয়—এটি একটি নৈতিক দিকনির্দেশনা, যা দলের ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি গঠনে সহায়ক হতে পারে।
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে
বিএনপি এখন আর ক্ষমতা দখলের খেলায় শুধু রাজনৈতিক ‘মাঠের পেশিশক্তি’ চাইছে না। বরং, ‘ভদ্রলোকের দল’ হিসেবে নিজেদের পুনঃস্থাপন করতে চাইছে—যেখানে স্থান পাবে সমাজের শিক্ষিত, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভার ভাষণে রিজভী জানান, “আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে যাচ্ছি। মানুষ বিশ্বাস করতে চাইছে। তারা একটা পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চায়। আমরা সেটাই দিতে চাই।”
– সারসংক্ষেপে, বিএনপির এই সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি সংগঠনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি মূল্যবোধনির্ভর রাজনৈতিক আন্দোলন—যেখানে দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি আর জনমানুষের সঙ্গে হৃদ্যতা স্থাপনের প্রয়াস একত্রে অগ্রসর হচ্ছে।