• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায়

বিশ্ব গণআদালতে শেখ হাসিনার বিচার শুরু: ৮০০ বছরের কারাদণ্ড ও তিনবার মৃত্যুদণ্ডের রায়

Reporter Name / ২৭২ Time View
Update : বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

 


বিশ্ব গণআদালতে শেখ হাসিনার বিচার শুরু: ৮০০ বছরের কারাদণ্ড ও তিনবার মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
প্রকাশের তারিখ: ২ জুলাই ২০২৫

আন্তর্জাতিক গণআদালত ২০২৪ শিরোনামে ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এর অভিযোগে শুরু হয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক বিচারপর্ব। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক বিতর্ক, নিপীড়নের অভিযোগ ও নথিভুক্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর অবশেষে এই বিচার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পরিসর এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, আদালতের প্রধান বিচারপতি শুনানির শুরুতেই মন্তব্য করেন, “এটা কি চার্জশিট, না মহাভারত?”

আনিত প্রধান অভিযোগ ও শাস্তির বিবরণ

প্রথম অভিযোগ, গুম ও গোপন হত্যাকাণ্ড। প্রায় ১২০০ রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিক নিখোঁজ হন তার শাসনামলে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে ছিল রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ সহায়তা। এই অপরাধে ৪০০ বছর কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

দ্বিতীয়ত, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি। বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেখ হাসিনার নীরব সম্মতিকে ‘অপেক্ষাকৃত ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে আদালত ২০০ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করে।

তৃতীয় অভিযোগ, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর গণহত্যা। রাতের আঁধারে পরিচালিত অভিযানে শিশু ও নিরীহ নাগরিকসহ বহু মানুষ নিহত হয়। আদালতের মতে, এই হত্যাকাণ্ড মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের শামিল। এর জন্য ১৫০ বছরের কারাদণ্ড ও দ্বিতীয়বারের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

চতুর্থত, ‘পিল নেটওয়ার্ক’ নামক এক ধরনের ডিজিটাল নেশা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রকল্পের অভিযোগ। তরুণ সমাজকে নেশায় নিমজ্জিত করতে এ প্রকল্প চালানো হয় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রত্যক্ষ তদারকিতে। এই অপরাধে ৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

শেষ অভিযোগ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বাকস্বাধীনতা দমন। বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচার, মিডিয়া ও বিচারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ, এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার—এই অপরাধগুলোর জন্য আদালত শেখ হাসিনাকে প্রতীকীভাবে তৃতীয়বারের মৃত্যুদণ্ড এবং ১০০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

সাজার সারসংক্ষেপ

গুম ও খুন: ৪০০ বছর কারাদণ্ড + প্রথম মৃত্যুদণ্ড
পিলখানা ট্র্যাজেডি: ২০০ বছর কারাদণ্ড
শাপলা চত্বর গণহত্যা: ১৫০ বছর কারাদণ্ড + দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ড
ডিজিটাল নেশা প্রকল্প: ৫০ বছর কারাদণ্ড
দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অপব্যবহার: ১০০ বছর কারাদণ্ড + প্রতীকী তৃতীয় মৃত্যুদণ্ড

মোট সাজা: ৯০০ বছর কারাদণ্ড এবং তিনবার মৃত্যুদণ্ড

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

বিচারপতি বলেন, “শেখ হাসিনা শুধু একজন নেতা নন—তিনি রাষ্ট্র ও জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এই আদালত তাঁর শাসনামলের প্রতিটি কান্না তাঁর ঘাড়েই ফিরিয়ে দিচ্ছে।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

মানবাধিকার কমিশনের মতে, “এটি কেবল বিচারপ্রক্রিয়ার সূচনা। ইতিহাস এবার রক্তের হিসাব চাইছে।”
সাধারণ নাগরিকদের ভাষায়, “এই রায় প্রতীকী হলেও আমাদের শোক ও ক্ষোভ তার চেয়েও অনেক গভীর।”

উপসংহার

এই রায় বাস্তবের চেয়ে বিবেকের আদালতে উচ্চারিত এক প্রতীকী সিদ্ধান্ত। এখানে কোনো দেশের আইন বই নয়, বরং ইতিহাসের কঠিন কাঠগড়ায় বসেছিল সত্যের বিচারে এক অনন্য অধ্যায়। যদি শেখ হাসিনার শাসনামল কখনও প্রকৃত জবাবদিহির আওতায় আসতো, তবে ৯০০ বছরের সাজাও হয়তো যথেষ্ট হতো না।

দৃষ্টিভঙ্গি

যখন শাসক জবাবদিহির ঊর্ধ্বে উঠে যায়, তখন ইতিহাস নিজেই আদালত বসায়।


More News Of This Category
bdit.com.bd