বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই রাজনীতি করে — মির্জা ফখরু
ঢাকা, ১৭ জুলাই ২০২৫, বিকাল ৪টা
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও গণতন্ত্রহীনতার মাঝে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি আবারও তাদের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করলো। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক গণসমাবেশে বলেন, “বিএনপি হচ্ছে সেই দল, যারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে চায়।”
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন দেশে নাগরিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ভয়াবহ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান শাসনব্যবস্থায় গণতন্ত্র কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। সাংবাদিকদের মুখে তালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় করণ, এবং আদালত ব্যবস্থার উপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দিন দিন ভেঙে দিচ্ছে।
বিএনপির দাবি, এই অবক্ষয় থেকে জাতিকে মুক্ত করতেই তারা রাজনীতি করছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, রাজনীতির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনসেবামূলক, দমনমূলক নয়। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর দুর্নীতি, লুটপাট ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে লড়াই করে আসছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, “এই দেশে এখন গরিব আর গরিব হচ্ছে, আর ধনীরা হয়ে যাচ্ছে অলিগার্ক। কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে, অথচ সাধারণ মানুষ একটা ডিম কিনতেও হিমশিম খায়। এটা যদি উন্নয়ন হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন জনগণের জন্য নয়, শুধুমাত্র শাসক গোষ্ঠীর জন্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই এমন একটা বাংলাদেশ, যেখানে কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না, যেখানে শ্রমিকের ঘামে দেশের কারখানা চলবে, আর কৃষকের ঘামেই খাদ্যে স্বনির্ভর হবে জাতি। বিএনপি সেই বাংলাদেশ চায়—যেখানে কেউ শুধুমাত্র ভিন্নমত পোষণ করায় নিখোঁজ হবে না, গুম হবে না, কিংবা গ্রেফতার হবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই বার্তা একটি বৃহৎ সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে এসেছে। দলটি এখন কেবল ‘সরকার পতনের’ রাজনীতি নয়, বরং এক ধরনের ভিশন-চালিত রাজনীতির দিকে যাচ্ছে—যেখানে তারা সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, এবং একটি কার্যকর গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমান বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, স্বাস্থ্যসেবায় অনিয়ম এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব — এই সংকটগুলোকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার জন্য বিএনপির এই জাতিগত অঙ্গীকার জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
তবে, সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। প্রশাসনিক দমন-পীড়ন, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-হামলা, এবং রাজনৈতিক মাঠে কার্যকর অবস্থান তৈরির কৌশলগত দুর্বলতা—এইসব বিষয়কেও বিএনপিকে সমানভাবে মোকাবিলা করতে হবে।
তবুও, ১৭ জুলাইয়ের এই বার্তাটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ — এটি একদিকে যেমন একটি আদর্শিক অবস্থান, অন্যদিকে একটি কৌশলগত ঘোষণা। জনগণের প্রত্যাশার সাথে তাল মিলিয়ে বিএনপি যদি বাস্তবমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ফলপ্রসূ রাজনীতি করতে পারে, তাহলে দেশবাসীর সামনে একটি নতুন বিকল্প গড়ে উঠতে পারে।