পুলিশ কল্যাণ তহবিলের জুন–জুলাই ২০২৫ এ বিতরণী: ৩৮৯ জন পেল ১.৫৭ কোটি টাকা, ৫৩ জন মৃত সদস্যের পরিবার পেল ২৯.০৫ লক্ষ
ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ তহবিল (বিপিসিপিএফ) এর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা বোর্ডের পঞ্চম সভায় (জুন–জুলাই/২৫) সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হতে নিম্নতর বেতনশ্রমিক ৩৮৯ জন পুলিশ ও নন–পুলিশ সদস্যের জন্য ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ১১ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশ কর্মচারী নিরাপত্তা প্রকল্প (পনপ) পরিচালনা পরিষদের একই সভায় ৫৩ জন মৃত সদস্যের পরিবারের জন্য ২৯ লক্ষ ৫ হাজার ৮০ টাকা এককালীন অনুদান বরাদ্দ হয়েছে।
পটভূমি ও তহবিলের কাঠামো
স্থাপনা: ১৯৮৬ সালে গঠিত, পুলিশ কল্যাণ তহবিলের মূল লক্ষ্য সদস্যদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত বিপর্যয়ে সহায়তা প্রদান।
অর্থায়ন: বছরে দুইবার সাব-ইন্সপেক্টর ও সমমান অফিসারদের বেতনের একটি নির্দিষ্ট অংশ কর্তন করে তহবিলে জমা হয়।
সুবিধাসমূহ:
চাকুরিরত অবস্থায় অথবা অবসরগ্রহনের পর দুই বছর পর্যন্ত মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে এককালীন ১০ হাজার টাকা বীমা স্বাস্থ্যসুবিধা।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বা দাফন-কাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা এককালীন সহায়তা।
প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে ১৫ বছর পর্যন্ত কল্যাণভাতা।
সাধারণ, গুরুতর ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রয়োজনমতো আর্থিক অনুদান।
বিতরণীর বিশদ
1. অনুদানগ্রহীতাদের সংখ্যা ও পরিমাণ
মোট ৩৮৯ জন: এদের মধ্যে আছে পিযারদারী, কনস্টেবল সহ নন-পুলিশ কর্মী যারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও অন্যান্য ইউনিটে কর্মরত।
অনুদানের সমষ্টি ১,৫৭,১১,০০০ টাকা—গড় করে kişi প্রতি প্রায় ৪০,৪০০ টাকা।
2. অনুদানের শ্রেণিবিবরণ
দান–ক্ষতিপূরণ: চাকুরীতে কর্মরত সদস্য বা অবসর প্রাপ্তদের পরিবারের জন্য।
চিকিৎসা সহায়তা: গতিপ্রকৃতিতে ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে জরুরি অনুদান।
কল্যাণভাতা: দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
3. পনপ-এর মেয়াদি অনুদান
৫৩ জন মৃত সদস্যের পরিবার পান ২৯,০৫,৮০০ টাকা:
প্রতিজন প্রায় ৫৪,৮০০ টাকা।
এর মাধ্যমে পরিবারগুলোকে মাথাপিছু দুই বছরের দৈনিক জীবন-ব্যয় ও শিক্ষাবৃত্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
—
কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা বোর্ডের মন্তব্য
> “পুলিশ কল্যাণ তহবিল দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আপ্রাণ পরিশ্রম করে যাঁদের পাশে থাকার ক্ষেত্রেই গড়ে উঠেছে। সার্ভিস-সিকিউরিটি, হেলথ-কেয়ার, এবং পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার,”
— সভাপতি, কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা বোর্ড।
> “পনপ-র অনুদান কর্মসূচি নিশ্চিত করেছে, যারা জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের দুঃসময়ে যেন একেবারেই একা না পড়তে হয়।”
— পরিচালক, পুলিশ কর্মচারী নিরাপত্তা প্রকল্প।
—
বিশ্লেষণ ও প্রত্যাশা
বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন ও পেশাগত উৎকর্ষের সঙ্গে–সঙ্গে সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও এখন সময়ের দাবি।
টেকসই সম্পদ: তহবিলের ধারাবাহিক আর্থিক অবদান সদস্যদের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলবে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: নিয়মিত বোর্ড সভা, সামাজিক অডিট ও ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিও উন্নয়নের মাধ্যমে তহবিলের প্রেক্ষাপট সুদৃঢ় করা উচিত।
সামাজিক প্রত্যাশা: পুলিশের ইমেজ ভালোর দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসব কল্যাণমূলক উদ্যোগ জনগণের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিধ্বনি ফেলবে।
সম্পাদকীয় মন্তব্য:
পেশাগত দায়বদ্ধতার পাশাপাশি মানবিক সহমর্মিতাও পুলিশ বাহিনীর অঙ্গাঙ্গী অংশ। আর্থিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সহায়তার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে তহবিল ভূমিকা রেখেছে। আগামীতে আরও সমন্বিত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ ব্যবস্থাকে অটুট রাখতে হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে এ সমস্ত তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত