পুরনো যুদ্ধবিমান আর এক তরুণ অফিসারের মৃত্যু: ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির কি শুধু দুর্ঘটনার শিকার?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্ট :
উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের পাশে গতকাল যে প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, সেখানে শুধু একটি যন্ত্র ভেঙে পড়েনি—সঙ্গে ধ্বংস হয়েছে একটি তরুণ জীবন, একটি পরিবার, এবং আরও একবার ফাঁস হয়ে গেছে রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থার নগ্ন চিত্র।
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির — একটি বোতাম টিপলেই নিজেকে রক্ষা করতে পারতেন। প্যারাসুট খুলে লাফ দিয়ে নিরাপদে নেমে আসার সময় তাঁর হাতে ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন বিমানটিকে জনবসতিহীন এলাকায় নামিয়ে দিতে—জীবন দিয়ে হলেও বাঁচাতে চেয়েছেন অন্যদের।
তাঁর যে বিমানটি ছিল, সেটি পুরনো F-7 — ১৯৭৬ সালে বাতিল হওয়ার মতো একটি যুদ্ধবিমান। ২০২৫ সালের আধুনিক আকাশে এই বিমানের থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিরক্ষা ক্রয়ব্যবস্থা এবং নষ্ট আমলাতন্ত্রের কারণে এই বিমান এখনও উড়ছে। এবং সেই ভঙ্গুর আকাশযানে চড়ে ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছেন তৌকিরদের মতো তরুণ অফিসাররা।
তৌকির আকাশে মারা যাননি। তিনি মরে গিয়েছিলেন সেই দিনই, যেদিন প্রতিরক্ষা বাজেট থেকে টাকা চুরি হয়েছিল, যেদিন সিদ্ধান্ত হয়েছিল বাতিল বিমান দিয়েই চালানো হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রশিক্ষণ।
এই সিস্টেম তাঁর জন্য কিছুই রাখেনি—না নিরাপত্তা, না বিকল্প।
রেখে গেছে কেবল মরচে ধরা লোহা, নষ্ট যন্ত্রপাতি, আর এক তরুণ প্রাণের নিশ্চিত বিসর্জন।
এই দুর্ঘটনায় তৌকির ছাড়াও প্রাণ হারিয়েছেন আরও অনেকে। আমরা তাঁদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আহতদের জন্য দোয়া করি, যেন তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এই দেশে আর যেন কোনো তরুণ তৌকিরকে, কোনো মরচে ধরা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আত্মাহুতি দিতে না হয়।
আর যেন রাষ্ট্র তার সাহসীদের জীবন নিয়ে এমন নিষ্ঠুর খেলা না খেলে।