নির্মল পাল | স্টাফ রিপোর্টার
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ফলমূলের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বাজারে ক্রেতারা বাড়তি দামের চাপে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে লেবুর দাম। বাজারভেদে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। টমেটো, বেগুন, শসা ও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। আপেল, কমলা, কলা, পেঁপে ও তরমুজসহ অধিকাংশ ফলমূলের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে ইফতার সামগ্রী কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্যবৃদ্ধি ঘটাচ্ছেন। তবে বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের চাপের কারণে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব একাধিক সরকারি সংস্থার ওপর বর্তায়। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার তদারকি ও অভিযোগের ভিত্তিতে জরিমানা আরোপ করতে পারে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সমন্বয় করে থাকে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধ মজুত ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে।
সচেতন মহলের দাবি, রমজান মাসে বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত তদারকি, কঠোর নজরদারি এবং দৃশ্যমান অভিযান জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় আরও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে।
রমজান সংযম ও সহমর্মিতার মাস হলেও বাজারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেই চেতনাকে ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপই পারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।