• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায়

নো-এন্ট্রির পণ্য চালান ঘিরে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন; প্রকাশ্যে কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার অভিযোগেও বিতর্ক

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১৫০ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

 

বেনাপোল কাস্টমসের ৪১ নম্বর শেডে কী ঘটেছিল? দুই ট্রাক পণ্য সরানো নিয়ে তোলপাড়, তদন্তের দাবি

নো-এন্ট্রির পণ্য চালান ঘিরে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন; প্রকাশ্যে কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার অভিযোগেও বিতর্ক

বেনাপাল, যশোর প্রতিনিধি | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেডে কাগজপত্রবিহীন পণ্য প্রবেশ, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ, গুদামে রাখা পণ্য সরিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শেডে রাখা পণ্যের কয়েকটি ট্রাকের মধ্যে দুটি ট্রাক মালামাল বাইরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে ঢাকার বংশালের একটি গুদাম থেকে ওই দুই ট্রাকের পণ্য আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আটক পণ্যের আনুমানিক মূল্য সাড়ে সাত কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

ঘটনার সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি, পণ্য চালানের অনিয়ম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। একই সঙ্গে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার ভূমিকা, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মঈন উদ্দিন আরমানের দায়িত্ব পালন এবং তাঁদের মধ্যে সংঘটিত কথিত অপ্রীতিকর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

তবে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বক্তব্য প্রচারিত হলেও প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে পণ্য সরানোর অনুমতি কে দিয়েছিলেন, চালানের কাগজপত্র কী ছিল, শুল্ক পরিশোধ হয়েছিল কি না, কোনো আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য কী—এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া কাউকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা সমীচীন নয়।

৪১ নম্বর শেডে কী ঘটেছিল?

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেডে নো-এন্ট্রি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া কয়েকটি ট্রাকে পণ্য আনলোড করা হয়েছিল। কোনো পণ্য বন্দরে প্রবেশ বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঘোষণা, শুল্কসংক্রান্ত নথি এবং অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শেডে চার ট্রাক পণ্য রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর পণ্যগুলোর ওপর নজরদারি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানকে দেওয়া হয়। তবে তাঁকে ঠিক কী ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই দায়িত্বের লিখিত আদেশ ছিল কি না এবং পণ্য পাহারা বা নজরদারির জন্য অন্য কোনো কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী নিয়োজিত ছিলেন কি না—এসব তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া খবর পান, ৪১ নম্বর শেডে রাখা পণ্যের চারটি ট্রাকের মধ্যে দুটি ট্রাকে মালামাল তুলে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত শেডে উপস্থিত হন এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত এআরও মঈন উদ্দিন আরমানকে সেখানে ডেকে পাঠানো হয়। পণ্য দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়ার পর কীভাবে দুটি ট্রাক মালামাল বাইরে চলে গেল, সে বিষয়ে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় বলে জানা গেছে।

সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, জবাবে আরমান জানান, তিনি অন্য একটি কাজে অন্যত্র ছিলেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ, দায়িত্ব পালনের সময়সীমা এবং পণ্য সরানোর বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দুই ট্রাক পণ্য কীভাবে শেডের বাইরে গেল?

ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই যদি পণ্য শেডের বাইরে চলে গিয়ে থাকে, তাহলে তা কীভাবে সম্ভব হলো।

একটি কাস্টমস হাউস ও স্থলবন্দরে পণ্য প্রবেশ, সংরক্ষণ, পরীক্ষা, শুল্ক নির্ধারণ এবং খালাসের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া থাকে। সংশ্লিষ্ট নথি, গেটপাস, চালান, ঘোষণাপত্র ও অনুমোদনের তথ্য পর্যালোচনা করলে পণ্যগুলো কোন প্রক্রিয়ায় বন্দরের বাইরে গেছে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:

প্রথমত, চার ট্রাক পণ্য বন্দরে প্রবেশের সময় কী ধরনের নথি ব্যবহার করা হয়েছিল?

দ্বিতীয়ত, পণ্যগুলো শেডে আনলোড করার অনুমতি কে দিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিতে কার কার স্বাক্ষর রয়েছে?

তৃতীয়ত, দুটি ট্রাক পণ্য বাইরে নেওয়ার জন্য কোনো গেটপাস বা বৈধ ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়েছিল কি না?

চতুর্থত, গেটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা কীভাবে ট্রাক দুটি বের হতে দিলেন এবং তাঁদের কাছে কী ধরনের অনুমোদনপত্র উপস্থাপন করা হয়েছিল?

পঞ্চমত, শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী এবং পণ্য পরিবহনে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে কার কী দায়িত্ব ছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্র, গেট রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ, দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে।

ঢাকার বংশালে সাড়ে সাত কোটি টাকার পণ্য আটকের দাবি

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বেনাপোল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা দুই ট্রাক পণ্য ঢাকার বংশালের একটি গুদাম থেকে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আটক পণ্যের আনুমানিক মূল্য সাড়ে সাত কোটি টাকা। তবে পণ্যের প্রকৃত ধরন, পরিমাণ, আমদানি-সংক্রান্ত নথি, শুল্কযোগ্য মূল্য এবং সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

পণ্যের মূল্য সাড়ে সাত কোটি টাকা হলেই একই পরিমাণ অর্থের শুল্ক ফাঁকি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য পণ্যের শ্রেণি, প্রযোজ্য শুল্কহার, কর, শুল্কায়নযোগ্য মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত বিধান বিবেচনা করতে হবে।

এ কারণে আটক পণ্যের জব্দতালিকা, চালানসংক্রান্ত নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

যদি নিশ্চিত হয় যে বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন পণ্য যথাযথ অনুমোদন ছাড়া সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তাহলে পণ্য পরিবহন, গুদামজাতকরণ, নিরাপত্তা এবং ছাড়পত্র প্রদানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে আটক পণ্যগুলোর মালিকানা, আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় যাচাই করে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।

২০ লাখ টাকা ঘুষের রফাদফার অভিযোগ

এ ঘটনায় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ এবং ২০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে পণ্য সরানোর ব্যবস্থা করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ সামনে এসেছে।

তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক লেনদেনের নথি, কথোপকথনের রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শীর যাচাইকৃত বক্তব্য, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আনুষ্ঠানিক মামলা-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া না গেলে অভিযোগটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়।

ঘুষের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে কথিত অর্থ লেনদেনের সময়, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, যোগাযোগের রেকর্ড এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের বক্তব্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দুর্নীতিবাজ বা অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তাঁর বক্তব্য নেওয়াও সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এআরও মঈন উদ্দিন আরমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রয়োজন। একইভাবে যাঁদের বিরুদ্ধে পণ্য সরানো বা কথিত আর্থিক লেনদেনে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বক্তব্যও যাচাই করা জরুরি।

অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদমর্যাদা বা পরিচয় বিবেচনা না করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে।

প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে নতুন বিতর্ক

পণ্য সরানোর ঘটনা জানার পর যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া এবং এআরও মঈন উদ্দিন আরমানের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বর্ণনা।

অভিযোগ রয়েছে, শেডে উপস্থিত হয়ে যুগ্ম কমিশনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তাঁর জবাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি জনসমক্ষে আরমানকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারেন বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

ঘটনাস্থলে বন্দর কর্মকর্তা এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে তাঁদের প্রত্যক্ষ বক্তব্য, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযোগটির সত্যতা আরও স্পষ্ট হবে।

যদি একজন কর্মকর্তা তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও কর্মক্ষেত্রে আচরণবিধির দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠলেও তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য প্রশাসনিক পদ্ধতি নয়।

একইভাবে কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন কি না, পণ্য সরানোর ঘটনায় তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না এবং তাঁকে দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।

অর্থাৎ পণ্য সরানোর অভিযোগ এবং কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ দুটি পৃথক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একটির সত্যতা অন্যটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ বা অবৈধ প্রমাণ করে না।

কাজ বন্ধ রাখার অভিযোগ, কাস্টমসে উত্তেজনা

এআরওকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কয়েক ঘণ্টা কাজ বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।

তবে কতজন কর্মকর্তা কাজে বিরত ছিলেন, কোন সময় থেকে কোন সময় পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ ছিল, এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে কী প্রভাব পড়েছে এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। এখানে কাস্টমসের কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা বা অনিয়ম হলে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবহন শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

তাই কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সঙ্গে বিরোধের কারণে সরকারি কার্যক্রম ব্যাহত হলে সেটিও যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ শোনা, প্রমাণ সংগ্রহ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।

ঘটনার পরবর্তী প্রশাসনিক পরিস্থিতি, তদন্তের উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার ভূমিকা নিয়ে দুই ধরনের আলোচনা

ঘটনাটি ঘিরে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়াকে নিয়ে ভিন্নমুখী আলোচনা চলছে। একদিকে পণ্য সরানোর বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গেছেন এবং অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বর্ণনা। অন্যদিকে অধীনস্থ কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে।

তাঁর সমর্থকদের দাবি, তিনি ঘুষের সঙ্গে আপস করেন না এবং পণ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে কাজ করতে চান। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য আমদানি কিংবা ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের অমিল থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট চালান যাচাইয়ে সময় নেন। এ কারণে কিছু ব্যবসায়ী তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হতে পারেন বলেও তাঁদের দাবি।

এ ছাড়া তিনি দায়িত্ব পালনকালে কয়েকটি পণ্য চালান আটক করে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ভূমিকা রেখেছেন বলে সমর্থকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তবে এসব দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট চালানের তথ্য, আটকাদেশ, শুল্ক আদায়ের নথি এবং কাস্টমসের আনুষ্ঠানিক রেকর্ড পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারিত বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা যায় না। একইভাবে কাউকে সৎ কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করলেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পৃথক অভিযোগ তদন্তের বাইরে রাখা যায় না।

একজন কর্মকর্তার পেশাগত সততা ও কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর সিদ্ধান্ত, নথিপত্র, রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড এবং আইনানুগ কার্যক্রমের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে অধীনস্থদের সঙ্গে আচরণ, প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ও মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত।

শরফুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর পক্ষে দেওয়া বক্তব্য—দুই দিকই যাচাই করে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত জানা গেলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।

সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

বেনাপোল কাস্টমসকে ঘিরে আরও একটি অভিযোগ হলো, কিছু ব্যক্তি অন্যের সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স ব্যবহার বা ভাড়া নিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সেই সুযোগে ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের অমিল, শুল্ক ফাঁকি কিংবা অন্যান্য অনিয়মের চেষ্টা করেন।

তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট লাইসেন্সধারী, আমদানিকারক বা ব্যবসায়ীকে প্রমাণ ছাড়া অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলা যাবে না। লাইসেন্সের প্রকৃত মালিকানা, অনুমোদিত প্রতিনিধি, পণ্য ঘোষণা, আমদানি-সংক্রান্ত দলিল এবং কাস্টমসের রেকর্ড যাচাই করে তবেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা নির্ধারণ করা সম্ভব।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উচিত, সন্দেহজনক চালানগুলোতে ঝুঁকিভিত্তিক পরীক্ষা জোরদার করা এবং কোনো ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পণ্যের অমিল পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ীদের যাতে অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা প্রয়োজন।

অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বৈধ ব্যবসা সহজ করার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই একটি কার্যকর কাস্টমস ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন

৪১ নম্বর শেডের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে উদ্ঘাটনের জন্য কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

প্রথমত, শেডে রাখা চার ট্রাক পণ্যের সম্পূর্ণ তালিকা, পরিমাণ, ধরন, আমদানিকারক এবং সংশ্লিষ্ট চালানের নথি সংগ্রহ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, পণ্যগুলো বন্দরে প্রবেশের সময় থেকে দুটি ট্রাক বের হওয়া পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ, গেট রেজিস্টার, প্রবেশ ও বহির্গমন নথি এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, পণ্য তদারকির দায়িত্ব কাকে, কখন এবং কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তার লিখিত আদেশ বা দাপ্তরিক রেকর্ড যাচাই করতে হবে।

চতুর্থত, পণ্য বাইরে নেওয়ার সময় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী, চালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের বক্তব্য নিতে হবে।

পঞ্চমত, ঢাকার বংশাল থেকে আটক পণ্যের জব্দতালিকা, প্রকৃত মূল্য, মালিকানা, পরিবহনপথ এবং বেনাপোলের চালানের সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক যাচাই করতে হবে।

ষষ্ঠত, ২০ লাখ টাকা ঘুষের কথিত রফাদফার অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

সপ্তমত, কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সম্ভাব্য ভিডিও ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

অষ্টমত, তদন্তে কারও বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ কিংবা শুল্ক ফাঁকিতে সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী পৃথকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কর্তৃপক্ষের কাছে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন

এই ঘটনা নিয়ে জনস্বার্থে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ:

১. চার ট্রাক পণ্য ৪১ নম্বর শেডে কীভাবে প্রবেশ করেছিল এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল কি না?

২. দুটি ট্রাক পণ্য বাইরে নেওয়ার জন্য কে অনুমোদন দিয়েছিলেন?

৩. বন্দরের গেট দিয়ে ট্রাক দুটি বের হওয়ার সময় কী ধরনের নথি যাচাই করা হয়েছিল?

৪. সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমানকে ঠিক কী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিলেন কি না?

৫. ২০ লাখ টাকা ঘুষের কথিত লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না?

৬. ঢাকার বংশাল থেকে আটক পণ্যের মূল্য সাড়ে সাত কোটি টাকা কি না এবং প্রকৃত শুল্ক ফাঁকির পরিমাণ কত?

৭. যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে অধীনস্থ কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না?

৮. পণ্য সরানোর ঘটনায় কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোন কোন স্তরে দায়িত্বের ঘাটতি ছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলের মাধ্যমে জানা গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

জনস্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বেনাপোল স্থলবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বারে পণ্য ব্যবস্থাপনা ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো পণ্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন নয়; বন্দরের নিরাপত্তা, রাজস্ব সুরক্ষা এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

এ কারণে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আগেভাগে অপরাধী ঘোষণা না করে প্রমাণ, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কেউ অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তাঁর ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত। আবার কোনো কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পদমর্যাদা, প্রভাব কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়—কোনোটিই তদন্তের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কারণ হওয়া উচিত নয়।

বেনাপোল কাস্টমসের ৪১ নম্বর শেডে দুই ট্রাক পণ্য সরানোর অভিযোগ, ঢাকার বংশাল থেকে পণ্য আটকের খবর, কথিত ঘুষের রফাদফা এবং একজন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যই চূড়ান্ত সত্য নয়। প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রয়োজন নথিপত্র যাচাই, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ ঘটনায় সত্য উদ্ঘাটনই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। তদন্তে যে-ই দায়ী প্রমাণিত হোন না কেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে নিজের বক্তব্য দেওয়ার এবং প্রমাণ উপস্থাপনের যথাযথ সুযোগ দিতে হবে।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন আরমান, যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিয়া এবং অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য আহ্বান করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক নথি কিংবা তদন্তের নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি সংশোধন ও হালনাগাদ করা হবে।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd