আব্দুস সালাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীতে নারী সাংবাদিক স্বপ্না আকতার স্বর্ণালি শাহ্ এর ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও নীলফামারী সাংবাদিক সমাজ এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান, শ্যামল রায় ও চন্দন রায়কে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
১৬ জুলাই (বুধবার) সকাল ১১টায় নীলফামারী চৌরঙ্গী মোড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ব্যানার ধরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানান। সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক আব্দুস সালাম।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন। আরও বক্তব্য রাখেন জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, জলঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রাশেদুজ্জামান সুমন, ডিমলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পাভেল, হেদায়েতুল সুজন, মানিক মণ্ডলসহ আরও অনেকে।
৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাংবাদিক স্বপ্না আকতার স্বর্ণালি শাহ্ নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষিচাপ ইউনিয়নের জংগলী পাড়ায় যান একটি বাল্যবিবাহ ঠেকাতে। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে জানা যায়, মেয়েটি সাবালিকা হলেও তাকে জোরপূর্বক এক ছেলের বাড়িতে রাখতে চাচ্ছিল একটি পক্ষ। সাংবাদিক স্বর্ণালি বিষয়টি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদর থানাকে অবহিত করেন।
এ সময় মেয়েটিকে স্থানীয় জগদীশ মেম্বারের বাড়িতে নিরাপদে রাখার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানের নির্দেশে স্থানীয় শ্যামল রায় ও চন্দন রায় সাংবাদিক স্বর্ণালি ও তার স্বামীকে মারধর করে। তারা স্বর্ণালির হাতে থাকা ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং মাটিতে ফেলে দেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “নীলফামারীতে নারী সাংবাদিক বলতে কার্যত স্বপ্না আকতার স্বর্ণালি শাহ্ ছাড়া কেউ নেই। যদি আজ তার ওপর হামলাকারীরা বিচারের আওতায় না আসে, তাহলে সাংবাদিকতা পেশায় নারীর অংশগ্রহণ আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে।”
ঘটনার প্রতিবাদে ডোমার উপজেলা রিপোর্টার্স ইউনিটিও আলাদা মানববন্ধনের আয়োজন করে। উপজেলা চত্বরের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন ডোমার প্রেসক্লাব সভাপতি ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাফফর আহমদ। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান সরকারের ছত্রছায়ায় দুর্নীতি ও নারী নির্যাতনের আশ্রয় নিচ্ছেন। তাকে এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।”
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি নিরব থাকে, তবে সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে নারী সাংবাদিকদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ আবারও সামনে চলে আসে।