নিষিদ্ধ সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ষড়যন্ত্রে ডেসটিনির সর্বনাশ
২ আগস্ট ২০২৫, ঢাকা
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর
৪৫ লাখ মানুষের স্বপ্ন, ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে
এক সময়ের স্বপ্নের নাম “ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড”, আজ তা পরিণত হয়েছে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রের খেলাঘরে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া এবং তার সহযোগী আশরাফুল আমিন। লন্ডনে বসে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে স্ক্যান করা স্বাক্ষরে ডেসটিনিকে পরিচালনা করছেন প্রশান্ত, আর মাঠপর্যায়ে আস্থাভাজন আশরাফুল চালাচ্ছেন অগণিত সম্পদের লুটপাট।
আদালতের নির্দেশ উপেক্ষিত, বিনিয়োগকারীদের স্বপ্ন চুরমার
সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বাধীন এই চক্র আদালতের বোর্ড গঠনের উদ্দেশ্যকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রাহ্য করে নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে গাছ, জমি, কারখানা, অফিস বিক্রির নামে নামমাত্র দামে লুটে নিচ্ছে। মাত্র ১২ কোটি টাকায় ১২৫ একর গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। টঙ্গী গোডাউনের ৯০ কোটি টাকার পণ্য হাওয়া হয়ে গেছে, অথচ এর কোনো জবাবদিহিতা নেই।
ডেসটিনিকে ‘প্রাইভেট লিমিটেড ষড়যন্ত্র কোম্পানি’তে পরিণত করার পাঁয়তারা
প্রতিষ্ঠানের নাম ডেসটিনি হলেও, ব্যবস্থাপনায় যেন চলছে একচ্ছত্র আধিপত্যবাদ। প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য পরিচালকরা অভিযোগ করছেন, কোনো বোর্ড সভা ছাড়াই এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই শিকার হতে হচ্ছে হুমকি, অপপ্রচার ও শারীরিক হামলার।
“আমার বাজার” নামে নতুন প্রতারণা চক্রের ফাঁদ
এই একই চক্র “আমার বাজার” নামে আরেকটি প্রতারণামূলক কোম্পানি চালু করে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ সেখানে বিনিয়োগ করেন। আজ সেই কোম্পানির অফিস বন্ধ, গ্রাহকদের অর্থ নেই বলে ঘোষণা দেয়া হয়—অথচ কোটি কোটি টাকা কোথায় গেছে, তার কোনো তদন্ত নেই।
বিনিয়োগকারীদের আকুতি—রফিকুল-হোসাইন জুটি ফিরে আসুক
ডেসটিনির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেন এখনও আশাবাদী। বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ মনে করেন, আদালতের স্বচ্ছ তত্ত্বাবধানে ও তাদের নেতৃত্বে কোম্পানিকে পুনরায় চালু করা গেলে বিনিয়োগের অর্থ ফিরে পাওয়ার পথ খুলে যাবে।
তাদের দাবি তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট:
১. ব্যারিস্টার প্রশান্ত ও আশরাফুল নেতৃত্বাধীন চক্রকে অপসারণ
২. কোম্পানির সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব খোলা হোক
৩. রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেনের হাতে ডেসটিনির দায়িত্ব ফিরিয়ে দিয়ে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হোক
৪৫ লাখ মানুষের প্রশ্ন: কারা ডেসটিনিকে ধ্বংস করলো?
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, “আমরা বাঁচতে চাই, আমাদের টাকা ফেরত চাই। আর সেটা সম্ভব শুধুমাত্র সৎ ও দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে। ষড়যন্ত্রকারীদের অপসারণ ও স্বচ্ছ তদন্তই পারে সত্যকে উদঘাটন করতে।”
এই প্রত্যাশার বার্তাই আজ ধ্বনিত হচ্ছে ৪৫ লাখ মানুষের মুখে—
“বিচার হোক, সত্য উন্মোচিত হোক। ডেসটিনি আবার জেগে উঠুক।”