• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বন্দর এলাকা, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সীমান্তপথে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলে প্রশংসায় ভাসছেন বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই (নিঃ) মো. রাশেদুজ্জামান ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সহকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতার আহ্বান মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি

নিউরো সায়েন্সের বিতর্কিত সেই বদরুল এখন ‘ছদ্মবেশী’ বিএনপি নেতা! আওয়ামী আমলে হাসিনার জন্মদিন পালন ও টেন্ডারবাজিতে সিদ্ধহস্ত বদরুলের খুঁটির জোর কোথায়?

নাজমুল হাসান চিফ ইন এডিটর / ১৩২ Time View
Update : শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬

 

নিউরো সায়েন্সের বিতর্কিত সেই বদরুল এখন ‘ছদ্মবেশী’ বিএনপি নেতা!
আওয়ামী আমলে হাসিনার জন্মদিন পালন ও টেন্ডারবাজিতে সিদ্ধহস্ত বদরুলের খুঁটির জোর কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও হাসপাতালের (NINS) যুগ্ম-পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ বদরুল আলমের বিরুদ্ধে ভোল পাল্টে বর্তমান প্রশাসনে জেঁকে বসার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও, তার বিশ্বস্ত অনুচর হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা নিজেকে ‘বঞ্চিত’ দাবি করে নতুন করে ৩ বছরের মেয়াদ বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছেন বলে জানা গেছে।

হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে উল্লাস
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে ডাঃ বদরুল আলম ছিলেন হাসপাতালের অঘোষিত সম্রাট। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রহসনের বিচারে কারান্তরীণ হয়ে হাসপাতালে ধুঁকছিলেন, সেই সময়ে ডাঃ বদরুল আলম অত্যন্ত সাড়ম্বরে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে তাকে পরম আহ্লাদে কেক কাটতে দেখা যায়। তার চেম্বারটি মূলত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।

লুটতরাজ ও টেন্ডার সিন্ডিকেট
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় তিনি হাসপাতালটিকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছিলেন। দামী মেডিকেল ইকুইপমেন্ট এবং এমএসআর (MSR) মালামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে তিনি একটি শক্তিশালী ‘আওয়ামী সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলেন। নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা কমিশন হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে মিলে বড় ধরনের নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের।

অবসর পেরিয়েও পদে বহাল
আওয়ামী লীগের প্রতি নির্লজ্জ আনুগত্যের পুরস্কারস্বরূপ ডাঃ বদরুল আলম স্বাভাবিক অবসরের বয়সসীমা পার হওয়ার পরও পদ ছাড়েননি। শেখ হাসিনার বিশেষ অনুকম্পায় তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাগিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেছেন। নিজেকে ‘বিএনপি ঘরানার লোক’ হিসেবে জাহির করে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার মাধ্যমে আরও ৩ বছরের জন্য চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য জোরালো তদবির চালাচ্ছেন।

কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ
ডাঃ বদরুলের এই ভোল পাল্টানো ও দাপট দেখে হাসপাতালের সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র নার্স বলেন, “যিনি কয়েক মাস আগেও হাসিনার গুণগানে ব্যস্ত ছিলেন, তিনি এখন কোন মুখে নিজেকে বঞ্চিত দাবি করেন? এটি শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি।” অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনো হাসপাতালে তার পুরনো ‘আওয়ামী সিন্ডিকেট’ টিকিয়ে রেখেছেন এবং নিজের অপকর্মের নথিপত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন।

দাবি উঠেছে তদন্তের
সচেতন নাগরিক সমাজ ও হাসপাতালের ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবিলম্বে ডাঃ বদরুল আলমের অপসারণ দাবি করেছেন। তাদের দাবি:

অনতিবিলম্বে তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে।

বিগত ১৫ বছরে তার অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তদন্ত শুরু করতে হবে।

হাসপাতালের টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

এই বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ডাঃ মোঃ বদরুল আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রশাসনে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে না।


More News Of This Category
bdit.com.bd