তিতাস গ্যাসের দুর্নীতিবাজ অফিস সহায়ক মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি
মোঃ শাহজাহান বাশার ,স্টাফ রিপোর্টার
যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী প্রায় ১৮ বছর যাবৎ তিতাস গ্যাসের ডি.আর.এস (DRS) ও সি.জি.এস (CGS) গুলোর পরিষ্কারের কাজ করে আসছি । কাজের সুবাদে আমি প্রত্যক্ষভাবে দেখেছি, অফিস সহায়ক মো. রবিউল ইসলামকে ব্যবহার করে তিতাস গ্যাসের সি.জি.এস ও ডি.আর.এস কনডেনসেট গ্যাস লাইনের তেল বিক্রির অপকর্ম চালানো হয়ে থাকে।
ডেমরা, তারাবো, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ ৪১২ মেগাওয়াট, দীঘিরপাড়, রূপসী, মেঘনাঘাট, বসুন্ধরা ডি.আর.এস, গজারিয়া, নরসিংদী, আশুগঞ্জ ও শাহজীবাজারসহ সকল স্টেশন থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১২০টি লরির মাধ্যমে তেল বের করা হয়। একটি লরির অফিসিয়াল ধারণক্ষমতা ৯ হাজার লিটার হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি লরি ১২ হাজার লিটার বহন করে। প্রতিলিটার তেলের মূল্য ছিল ৩৮ টাকা।
প্রতি মাসে আনুমানিক ১২০টি গাড়ি তেল বহন করলেও অফিসিয়ালি পাস জমা হয় মাত্র ৩৫ থেকে ৩৮টি গাড়ির জন্য। এই তেল অপকর্মের মূল দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন ম্যানেজার রফিক সাহেব এবং বর্তমান নারায়ণগঞ্জের ডি.এম.ডি রাজীব কুমার সাহা। এ সময় আরও অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এই তেলের টাকা সংগ্রহ করতেন রবিউল ইসলাম। পূর্বে এই তেলের দাম ছিল ১০২ টাকা। সিটি গ্যাস কর্তৃপক্ষ পাইপলাইন গ্রহণ করার পর থেকে কনডেনসেট গ্যাস কম আসছে। রবিউলকে ব্যবহার করে অপারেশন শাখার কর্মকর্তারা ডেমরা গোডাউন থেকে যেকোনো সময় জরুরি মালামাল বের করে নেন এবং সেগুলি বিক্রি করে দেন।
রবিউল ইসলাম ও রাজ্জাক নামের আরেক পিয়ন মিটারের রিডিং ক্যাসেট ও রেগুলেটর বিক্রি করে থাকেন। প্রতিটি রেগুলেটরের বাজারমূল্য আনুমানিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এই ক্যাসেট ও রেগুলেটর ব্যবহার করে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিটার টেম্পারিং করা হয়। অপারেশনের যেকোনো কাজে অফিসাররা পিয়ন রবিউলকে না জানিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না।
রবিউল ইসলাম আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার দিন থেকে এখন পর্যন্ত ডেমরার সি.জি.এস-এ কর্মরত রয়েছেন। পিয়ন হওয়া সত্ত্বেও তাকে দিয়ে রোস্টার ডিউটি করানো হচ্ছে। এমনকি স্টেশনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিজেই করেন এবং পুরাতন মালামাল বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করেন।
উল্লেখ্য, পিয়ন ও নিরাপত্তা প্রহরীদের দিয়ে রোস্টার ডিউটি ও গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল কাজ করিয়ে শত কোটি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। এদের মধ্যে রবিউল, রাজ্জাক ও নিরাপত্তা প্রহরী আমজাদ উল্লেখযোগ্য।
অতএব, উপর্যুক্ত পরিস্থিতিতে দুর্নীতিবাজ অফিস সহায়ক মো. রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। তাদের নিজ নিজ পদমর্যাদা অনুযায়ী উপযুক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত করার বিষয়টিও আপনার সদয় বিবেচনায় প্রার্থনা করছি।