টায়ার কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ও কৃষকরা
নাজমুল হাসান স্টাফ রিপোর্টার
সাভার উপজেলা ভাগুতা ওমুগদা কান্দা মোট দশ টি টায়ার কারখানা গড়ে উঠেছে।
টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদন: বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন, পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগে অবৈধ কারখানা
সাভার উপজেলা ভাগুতা ওমুগদা কান্দা এলাকায় লাইসেন্সবিহীন টায়ার পুড়িয়ে ফার্নেস অয়েল উৎপাদনের মাধ্যমে মারাত্মক পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই টায়ার কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় প্রতিদিন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে আশপাশের জনপদ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ধোঁয়ার কারণে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, দিনের পর দিন টায়ার পোড়ানোর ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক গ্যাস। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্য, ফসলি জমি, গাছপালা এবং গৃহপালিত পশু-পাখির ওপর। অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, ধোঁয়ার কারণে জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে, গরু-ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ছে, এমনকি হাঁস-মুরগি মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা ভয়ের কারণে প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হননি। তাদের দাবি, কারখানার মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে কথা বললে হয়রানির শিকার হতে পারেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা অভিযুক্ত কারখানার মালিক সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বারবার চেষ্টা সত্ত্বেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জোর দাবি—অবিলম্বে এই লাইসেন্সবিহীন অবৈধ টায়ার কারখানা বন্ধ করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা হোক।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,
“এই বিষয়ে আগে আমাদের জানা ছিল না। তবে এখন যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি, আমি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব। এ ধরনের কোনো অবৈধ কারখানা আমার এলাকায় থাকতে পারবে না—বিষয়টি আমি গুরুত্বসহকারে দেখব।”
পরিবেশবাদীদের মতে, টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদন একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম। যথাযথ অনুমোদন ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া এ ধরনের কারখানা চালু থাকলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় নেমে আসবে।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং অবৈধ টায়ার কারখানার বিরুদ্ধে আদৌ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না