জুলাইয়ের শহীদদের রক্তে লেখা হবে আগামী বাংলাদেশের ইতিহাস — আলহাজ্ব নূর জামান লিটন
শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে ছাত্রদলের প্রতি দৃপ্ত আহ্বান
ডেস্ক রিপোর্ট | ১৫ জুলাই ২০২৫
শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নূর জামান লিটন বলেছেন, “জুলাইয়ের শহীদদের রক্তে লেখা হবে আগামী বাংলাদেশের ইতিহাস।”
তিনি এ কথা বলেন মঙ্গলবার ছাত্রদলের এক আলোচনায়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন শার্শা ও যশোর জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
নূর জামান লিটন বলেন, “এই রক্ত, এই ত্যাগ—কেবল ছাত্রদলের গৌরব নয়; এটি বাংলাদেশের মুক্তির ইতিহাসের ভিত্তি। যারা শহীদ হয়েছে, তারা আমাদের দেখিয়ে গেছে কেমন করে একটা দেশপ্রেমিক প্রজন্ম জন্ম নেয়। ছাত্রদলের ভাইয়েরা, এই রক্ত ঋণ শোধ করতে হবে আগামী দিনের রাজপথে, ব্যালট বিপ্লবে।”
জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট: একটি বিদ্রোহী অধ্যায়
২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি টার্নিং পয়েন্ট। শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী সরকার পতনের দাবিতে সারাদেশে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুধু জুলাই মাসেই সংঘর্ষ, গুলি ও নির্যাতনের শিকার হন শতাধিক আন্দোলনকারী।
উল্লেখযোগ্য শহীদদের মধ্যে রয়েছেন—
মোঃ রাসেল হোসেন (কুড়িগ্রাম)—ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী, যাকে রাজপথেই গুলি করে হত্যা করা হয়
মিজানুর রহমান সোহাগ (খুলনা)—হাসপাতাল থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়; পরে তাঁর লাশ পাওয়া যায় রেললাইনে
সালাউদ্দিন শুভ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)—বিক্ষোভ থেকে গ্রেফতারের পর ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত
এছাড়াও বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, রংপুর—প্রায় সব জেলায়ই শহীদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।
জনাব তারেক রহমানের ভূমিকা: নেতৃত্ব ও প্রতিরোধের নির্দেশনা
লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় কয়েকটি যুগান্তকারী বার্তা ও নির্দেশনা দেন—
1. ‘অবিচার রুখে দাঁড়াও, শেষবারের মতো’—২০ জুন ২০২৪ তারিখের এক ভিডিওবার্তায় ছাত্র-যুবকদের উদ্দেশ্যে এই আহ্বান জানান।
2. আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কৌশলগত নির্দেশনা—রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশালে রিজিওনভিত্তিক নেতা নির্বাচন ও সমন্বয়ের নির্দেশ দেন।
3. জুলাই শহীদদের জন্য স্মরণ দিবস ঘোষণার ঘোষণা—২১ জুলাই ২০২৪ তারিখে, শহীদ রাসেল হত্যার ঠিক এক সপ্তাহ পর তারেক রহমান ‘জুলাই প্রতিরোধ সপ্তাহ’ ঘোষণা করেন।
4. আন্তর্জাতিক লবিং—তারেক রহমান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে হত্যা ও নির্যাতনের দলিল প্রেরণ করেন।
নূর জামান লিটনের বার্তা: চরিত্র যেন আওয়ামী লীগের মতো না হয়
নূর জামান লিটন ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “আজ যারা আন্দোলনে আছে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ সুবিধাবাদী হয়ে উঠছে। আমাদের চরিত্র যেন আওয়ামী লীগের মতো না হয়। আমরা শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে চাই—যেখানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না, আর সত্যকে গলা টিপে হত্যা করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান আমাদের কাছে কেবল নেতা না, তিনি আগামী বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। আজকের ছাত্রদলের রক্ত তাঁর দিকেই নির্দেশ করছে—এই অন্ধকারে তিনিই আলো।”
সামনে কি আছে?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা আওয়ামী লীগ, অন্যদিকে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বহনকারী একটি আন্দোলন।
তবে নূর জামান লিটনের মতো মাঠপর্যায়ের নেতাদের দৃপ্ত আহ্বান বলছে—এই লড়াই কেবল ক্ষমতার নয়, এটি মূল্যবোধের, এটি শহীদের প্রতি প্রতিশ্রুতির।
“তাদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না,”—এই বার্তা নিয়েই এগোচ্ছে এক প্রজন্ম, যার পথপ্রদর্শক তারেক রহমান।