চৌগাছা-ঝিকরগাছায় আনন্দের জোয়ার: আইনি লড়াইয়ে জয়ী সাবিরা সুলতানা উত্তাল জনপদে ধানের শীষের পালে নতুন হাওয়া; প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর ।। সকল ষড়যন্ত্র ও আইনি জটিলতার জাল ছিন্ন করে অবশেষে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ধানের শীষের কান্ডারি সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে দিনভর নাটকীয় ও দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় আসায় ঝিকরগাছা ও চৌগাছা এলাকার লক্ষাধিক মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। সাধারণ ভোটারদের মতে, এটি কেবল একজনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া নয়, বরং তৃণমূলের জনপ্রিয়তার জয়।
আইনি লড়াই ও কমিশন শুনানি: সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবিরা সুলতানার মনোনয়নপত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলামের আপত্তির প্রেক্ষিতে দুই দফা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে সাবিরা সুলতানার পক্ষে তুখোড় আইনি লড়াই করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল হোসেন। তথ্য-প্রমাণ ও দলিলাদি পর্যালোচনার পর কমিশন জহুরুল ইসলামের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করে। এর আগে ব্যাংক এশিয়ার পক্ষ থেকে আনা একটি আপত্তিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রত্যাহার করে নিলে তাঁর বিজয়ের পথ সুগম হয়।
তৃণমূলে আনন্দের মহোৎসব: প্রার্থিতা বৈধ হওয়ার খবর এলাকায় পৌঁছানোর সাথে সাথেই ঝিকরগাছা ও চৌগাছার অলিগলিতে সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবিরা সুলতানার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এই দুই উপজেলায় প্রশ্নাতীত। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, তাদের প্রিয় নেত্রীকে নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে রাখার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, আজকের রায়ের মাধ্যমে তার উপযুক্ত জবাব পাওয়া গেছে।
নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া: শুনানি শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জাহিদুল ইসলাম সুমন এবং যুবদল সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরাফাত কল্লোল বলেন, “সাবিরা সুলতানা এই জনপদের মাটি ও মানুষের নেত্রী। তাঁকে ছাড়া এই আসনে নির্বাচন কল্পনা করাও কঠিন। আজকের রায়ে সত্যের জয় হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ ভোটের মাঠেও ধানের শীষের বিশাল বিজয় হবে।”
নির্বাচনী সমীকরণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবিরা সুলতানা প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় যশোর-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা এবং নারী ভোটারদের মধ্যে বিশাল গ্রহণযোগ্যতা প্রতিপক্ষ শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলার সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে সাবিরা সুলতানা এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেক এগিয়ে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রিয় প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ঝিকরগাছা ও চৌগাছার প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে এখন নতুন করে নির্বাচনী আমেজ ও গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে।