বিশেষ প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
মাদক নামের বিষাক্ত ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই কোণঠাসা হয়ে পড়া মাদক কারবারিরা নতুন এক গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে চলা এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও সফল অভিযানগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মরিয়া হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার চৌকস ও সৎ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে মনগড়া, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি ঘুষের অভিযোগ তুলে তাঁকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোনো ধরনের বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ বা নির্ভরযোগ্য সত্যতা ছাড়াই একটি সাজানো স্ক্রিনশট এবং আংশিক ফোনালাপকে পুঁজি করে একজন পেশাদার ও দেশপ্রেমিক পুলিশ কর্মকর্তার সম্মানহানির এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে সচেতন মহল।
সফল মাদকবিরোধী অভিযানের পরই শুরু হয় মাদক কারবারিদের কুচক্র
গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ইসলামপুর ইউনিয়নের চর বালিয়াঘাটা এলাকায় একটি সফল ও সাঁড়াশি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন এসআই মো. আব্দুল মোতালেব। মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে এই অভিযানে ১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারিদের হাতেনাতে আটক করা হয় এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের কারণে এলাকায় যখন মাদক ব্যবসায়ীদের সাম্রাজ্যে ধস নামে, তখনই নিজেদের রক্ষা করতে এবং পুলিশের মনোবল চিরতরে ভেঙে দিতে একশ্রেণির কুচক্রী ও মাদক কারবারি মাঠে নামে। পুলিশের এই সফল অভিযানকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই তারা ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার এই কাল্পনিক ও বানোয়াট গল্প সাজায়।
প্রমাণের লেশমাত্র নেই: সাজানো স্ক্রিনশট ও আংশিক ফোনালাপের চক্রান্ত
এই ভূয়া অভিযোগের সপক্ষে দুটি মাধ্যম প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে—একটি হলো তথাকথিত ৫০ হাজার টাকার বিকাশ লেনদেনের স্ক্রিনশট এবং অন্যটি মোবাইল ফোনের আংশিক রেকর্ড করা কথোপকথন। কিন্তু গভীর পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এই তথাকথিত প্রমাণগুলোর পেছনে কোনো আইনগত ভিত্তি বা সত্যতা নেই:
বিকাশ লেনদেনের প্রহসন:মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের একটি স্ক্রিনশট দিয়ে একবারে কীভাবে কার অ্যাকাউন্টে টাকা গেল এবং তার সাথে দায়িত্বশীল কোনো পুলিশ কর্মকর্তার দূরতম কোনো সংযোগ থাকতে পারে—তা যাচাই না করে প্রোপাগান্ডা চালানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ফোনালাপের বিকৃতি: পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সাংবাদিক বা ব্যক্তির সঙ্গে হওয়া ফোনালাপের খণ্ডিত ও সম্পাদিত অংশ প্রকাশ করে তা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। পুলিশের ওপর ক্ষোভ থেকে বা মাদক সম্রাটদের ইন্ধনে এই ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মকর্তা এসআই মোতালেবের দ্ব্যর্থহীন অবস্থান
অভিযোগের বিষয়ে এসআই মো. আব্দুল মোতালেব পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অর্থ লেনদেনের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “আমি সততার সাথে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি। আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। অথচ মাদক কারবারিদের দমনে কঠোর হওয়ার কারণেই আজ আমার বিরুদ্ধে এই কুচক্রী মহল লেগেছে।
জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রোপাগান্ডা রুখে দেওয়ার আহ্বান
মাদক একটি জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেয়। এই সর্বনাশা মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের সাহসী অভিযান সবসময়ই প্রশংসনীয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু কুচক্রী মহল এবং হলুদ সাংবাদিকতার আদলে গুটিকয়েক ব্যক্তি পুলিশের মতো একটি দেশপ্রেমিক বাহিনীকে বিতর্কিত করতে মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে অপপ্রচারে নেমেছে।
একজন সৎ, কর্তব্যনিষ্ঠ ও দেশপ্রেমিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ধরনের মানহানিকর ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে এই ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডার পেছনে থাকা কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আসল সত্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। মাদকবিরোধী এই যুদ্ধে পুলিশ ও জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে—এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।