চাঁদাবাজদের গোপনে দৌড়ঝাঁপ, নানা কৌশলে নীরব চাঁদাবাজি সর্বত্র! নেপথ্যে কারা?
মোঃ শাহজাহান বাশার, স্টাফ রিপোর্টার
দেশজুড়ে যেন একটি অদৃশ্য শাসনব্যবস্থা বিরাজ করছে। শহর থেকে মফস্বল, বন্দর থেকে সীমান্ত—সবখানেই চলছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবা*জি ও মাদক সিন্ডিকেটের অপারেশন। খোলাখুলি নয়, বরং কৌশলী ও সুশৃঙ্খল এই অপরাধচক্র এখন আরও শক্তিশালী ও দুঃসাহসী। প্রশ্ন উঠছে—কে এই নেপথ্যের নিয়ন্ত্রক? কীভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি সমান্তরাল অপরাধ সাম্রাজ্য?
নানা সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দোকানপাট, পরিবহন, নির্মাণসাইট, ফুটপাথ ও কাঁচাবাজার—সবখানেই নির্ধারিত হারে চাঁ*দা দিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও খেটে খাওয়া মানুষজন। কেউ দেয় ভয় পেয়ে, কেউ দেয় নিরাপত্তার জন্য। যারা অস্বীকার করে, তাদের ওপর নেমে আসে শারীরিক হামলা, মামলা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার পরিকল্পিত অপচেষ্টা।
এই অর্থেই চলে অপরাধ জগতের মূল চাকা। প্রতিটি থানা বা উপজেলা পর্যায়ে সক্রিয় একাধিক লোকাল সিন্ডিকেট, যাদের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব ও কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তার ছত্রচ্ছায়া।
কিছু এলাকায় বাস্তব নিয়ন্ত্রণে নেই জনপ্রতিনিধি বা পুলিশ প্রশাসন—বরং সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় চাঁদাবা*জ ও মাদক কারবারিরা। রাতের আঁধারে চলে গোপন সভা, পরিকল্পনা ও ‘বন্টন’। প্রভাবশালী চক্রের অনুমতি ছাড়া ফুটপাতে দোকান, গাড়ি চলাচল, এমনকি পশুর হাট বসানোও সম্ভব নয়।
চাঁদাবাজির পাশাপাশি সমানভাবে সক্রিয় রয়েছে মাদক ব্যবসা। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল, আইস ও হেরোইন—সবই এখন সহজলভ্য। কাস্টমার চাইলে মাদক পৌঁছে যায় ঘরে ঘরে। সবচেয়ে বিপন্ন শ্রেণি এখন স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরী। তথ্য বলছে, ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যেই মাদক গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি। এই মাদকচক্রই চাঁদাবাজি থেকে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও ধরা যাচ্ছে না প্রকৃত গডফাদারদের। কারণ তারা সামনে আসে না। সবকিছুই হয় মোবাইল ফোন, আর্থিক অ্যাপ এবং দালালের মাধ্যমে। স্থানীয়ভাবে কিছু নাম উঠে এলেও মূল পরিকল্পনাকারীরা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের মত, এই সিন্ডিকেটকে এখনই থামাতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু অর্থনীতি বা আইনশৃঙ্খলা নয়—দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সমাধানের জন্য যা জরুরি:
দেশের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য—এই নীরব দুর্যোগ এখনই রোধ করা প্রয়োজন। দেরি হলে তা হয়ে উঠবে জাতীয় নিরাপত্তার সংকট।