চাঁদনী আক্তার মায়ার প্রতারণা: আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিচার চায় ভুক্তভোগীরা
মোঃ শাহজাহান বাশার, স্টাফ রিপোর্টার | কুমিল্লা, ২০ জুলাই ২০২৫
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীতল গ্রামের নারী চাঁদনী আক্তার মায়া—কাগজে-কলমে একজন সাধারণ নাগরিক হলেও, এলাকাবাসীর কাছে এখন তিনি প্রতারণার প্রতীক। বিয়ের ফাঁদ, মোটা অঙ্কের কাবিন, হঠাৎ তালাক, মিথ্যা মামলা, ব্ল্যাকমেইল, পরিবার ধ্বংস—চাঁদনীর ‘কৌশলী অপরাধ’ একের পর এক পরিবারকে নিঃস্ব করেছে। আজ তিনি সমাজে এক আতঙ্কের নাম।
চাঁদনী আক্তার মায়া কখনো ‘চাঁদনী আক্তার’, কখনো ‘চাঁদনী মায়া’, কখনো ‘মায়া রহমান’—এই ভিন্ন নাম ব্যবহার করে কমপক্ষে পাঁচজন পুরুষকে বিয়ে করেছেন, এমনটাই জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতিবারই নিজেকে ‘কুমারী’ পরিচয় দিয়ে মোটা অঙ্কের কাবিন আদায় করেন, অথচ বাস্তবে তিনি বিবাহিত এবং তার তিনটি সন্তান রয়েছে।
তার বিয়ের তালিকায় আছেন:
প্রতিটি বিয়ের পর কিছুদিন যেতে না যেতেই তৈরি করেন মনোমালিন্য, পরে নাটকীয় তালাক, এরপর শুরু হয় মিথ্যা মামলা—যা ভুক্তভোগীদের অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে চূড়ান্ত বিপর্যয়ে ফেলে।
চাঁদনীর প্রতারণায় কেবল পুরুষ নয়, ভুক্তভোগী হয়েছেন নারীরাও। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিবাহিত পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তাঁদের সংসার ভাঙিয়ে দিয়েছেন। এরপর শুরু হয়েছে সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া।
সিনথিয়া আরাফাত নিপা (ধার্মপুর রেলগেইট, কুমিল্লা) বলেন,
“আমার ১৮ বছরের সংসার ভেঙে গেছে। তিন সন্তান নিয়ে পথের ফকির আমি। চাঁদনী আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে।”
আখি আক্তার (পাইকপাড়া, কুষ্টিয়া) বলেন,
“চার সন্তানসহ আমি পথে বসেছি। সমাজে মুখ দেখানোর উপায় নেই।”
প্রথম স্বামী মোহাম্মদ কাউসার অভিযোগ করেন,
“চাঁদনী আমার দুই সন্তানকে জোর করে হেফাজতে রেখেছে এবং ভুয়া জন্মনিবন্ধন বানিয়ে বাবার নাম পাল্টে ফেলেছে। সন্তানদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করছে।”
তিনি গত এক বছর ধরে সন্তানদের অধিকার ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই প্রতারণার চক্র তদন্তে নামেন ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ পত্রিকার সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম। এরপর চাঁদনী তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হুমকির মাধ্যমে তদন্ত থামাতে চেয়েছেন। একাধিক ভুক্তভোগীও এমন হুমকির মুখে পড়েছেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আবু ছালাম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। প্রশাসনের এই নিরবতা ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের পথে এক বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনী আক্তার মায়ার পেছনে আছেন কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
চাঁদনীর বিরুদ্ধে কুমিল্লা দায়রা জজ আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন। আইনজীবীরা বলছেন, যথাযথ প্রমাণ ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করা গেলে এই প্রতারণার নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা সম্ভব।
ভুক্তভোগীরা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন,
“আমরা রাজনৈতিক প্রভাব নয়, ন্যায়বিচার চাই। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ের আড়ালে কেউ যেন নিরীহ মানুষের জীবন ধ্বংস করতে না পারে।”
এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য একাধিকবার চাঁদনী আক্তার মায়ার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
চাঁদনী আক্তার মায়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শুধু এক নারীর দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিজীবন নয়, বরং তা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক অপব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র। এখন সময় এসেছে দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও শাস্তির, যাতে সমাজে কেউ আর ভুয়া পরিচয়, বিয়ের ফাঁদ ও মামলা-হয়রানির মতো অপরাধ করে নির্বিচারে পার পেতে না পারে।
(চাঁদনীর রাজনৈতিক সংযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা ও আরও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য নিয়ে পরবর্তী অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশিত হবে।)
রচনা ও অনুসন্ধান সহায়তায়: ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ টিম
ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা আপসহীন।