চট্টগ্রামে যুবদলের বিক্ষোভে হুঁশিয়ারি: “তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার সহ্য করা হবে না”
১৭ জুলাই ২০২৫চ
ট্টগ্রাম প্রতিনিধি তুষার দাস
সরকারের নির্বাচন বিষয়ে নির্লিপ্ততা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচারের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে যুবদলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল দৃপ্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—
> “তারেক রহমান শুধু একজন নেতা নন, তিনি বাংলাদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর দুঃসাহস কেউ দেখালে, তা আর সহ্য করা হবে না। যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বলছি— এখনো সময় আছে, সত্যের পথে আসুন। নইলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে জায়গা হবে আপনাদের।”
তিনি আরও বলেন,
> “সংস্কারের নামে জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। অথচ বিএনপির ৩১ দফা প্রস্তাবে দেশের সংকট নিরসনের রূপরেখা স্পষ্ট। ষড়যন্ত্র করে নির্বাচন ঠেকানো যাবে না, জনগণ তা রুখে দেবে।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ।
অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য:
নাজিমুর রহমান, সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি বলেন—
> “ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে দেশের দুটি তথাকথিত ইসলামী দল সক্রিয়। এদের অতীত রক্তাক্ত ইতিহাস এবং পাকিস্তানি শাসনের সহযোগী ভূমিকা ভুলে গেলে চলবে না।”
মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন—
> “১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলন আজ আবারও হুমকির মুখে। বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে কোনো আপস করবে না।”
মুহাম্মদ শাহেদ বলেন—
> “জাতীয় স্বার্থে দলমত ভুলে আমরা ড. ইউনুসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রস্তাব করেছি। কিন্তু লন্ডন বৈঠকের পর থেকেই দেশি-বিদেশি অপশক্তি এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তিনি মিডফোর্ড এলাকার বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন বিলম্বিত করার চক্রান্তের কথাও তুলে ধরেন।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
সমাবেশে বক্তব্য দেন—
ইকবাল হোসেন (সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, মহানগর যুবদল), আজমল হুদা রিংকু, নুর আহমেদ গুড্ডু, এস এম শাহ আলম রব, শাহেদ আকবর, এম এ রাজ্জাক, ফজলুল হক সুমন সহ শতাধিক যুবদল নেতা-কর্মী।
ছাত্রদল, শ্রমিকদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন ইউনিট থেকেও নেতৃবৃন্দ যোগ দেন।
বিক্ষোভ মিছিলের রুট:
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পুরাতন রেলস্টেশন চত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আন্দরকিল্লা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
—
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে চলমান অপপ্রচার এবং বিএনপির প্রতিরোধমূলক বক্তব্য এখন জাতীয় রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি তৃণমূলে দলীয় সংহতি আরও সুসংহত করছে, এবং ভবিষ্যতের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করছে।
এই কর্মসূচি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে সারাদেশব্যাপী ধারাবাহিকভাবে পালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ ছিল বিশেষভাবে জনসম্পৃক্ত, এবং এতে রাজনৈতিক উত্তেজনারও প্রতিফলন দেখা গেছে।
—
রিপোর্ট প্রণয়ন: Daily Prothom বাংলাদেশ সংবাদকক্ষ
[www.dailyprothombangladesh.com]