গোপালগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে চরম উত্তেজনা: পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনও’র বহরে হামলা
বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার, জেলা প্রতিনিধি – গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা’কে ঘিরে সংঘর্ষ, হামলা ও আগুনের নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন লাগায় এবং পরে নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িবহরেও হামলা চালায়। এসব ঘটনার পর পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ছাত্রলীগের নামে সহিংসতা, অভিযোগ এনসিপির
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এনসিপি কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার পৌর পার্কে একটি পদযাত্রার আয়োজন করে। এই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগেই ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন’ ছাত্রলীগের একটি অংশ — যাদের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়াল — পুলিশি প্রহরায় থাকা একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একইসঙ্গে ভাঙচুরও চালানো হয়।
পরবর্তীতে ওই সহিংস গোষ্ঠী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র গাড়িবহর লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে ইউএনও ও তাঁর নিরাপত্তা টিম অক্ষত ছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য: দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির মো. সাজেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:
> “ছাত্রলীগের একটি অংশ পদযাত্রা ভণ্ডুল করতে হামলা চালায়। তারা প্রথমে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগায় এবং পরে ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলা করে। ঘটনার পরপরই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই এবং এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলমান।”
শহরে টানটান উত্তেজনা, প্রশাসনের কড়া নজরদারি
ঘটনার পর গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও, এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সহিংসতায় প্রশাসন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এনসিপি সামনে, ছাত্রলীগ চাপে
এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও, গোপালগঞ্জে ছাত্রলীগের সহিংস কর্মকাণ্ড রাজনৈতিকভাবে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— ক্ষমতাসীন দলের ভিতর থেকে সংঘাত উস্কে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ভূমিকাই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।
গোপালগঞ্জে এ ধরনের প্রশাসনিক গাড়িবহর ও পুলিশের ওপর হামলা সাধারণ ঘটনা নয়। একদিকে এটি ছাত্রলীগের শৃঙ্খলাভঙ্গের চিত্র তুলে ধরছে, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে এনসিপির উত্থান ঠেকাতে ক্ষমতাসীন মহলের ভেতরের অস্থিরতা ও ভয়ও প্রকাশ করছে। এখন দেখার বিষয়— প্রশাসন আসলে কার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়, এবং এই সহিংসতার পূর্ণ তদন্তে কারা দায়ী বলে চিহ্নিত হয়।