খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের সমাবেশে হামলা—চার সংগঠনের সরাসরি নিন্দা ও প্রতিবাদ
এস চাঙমা সত্যজিৎ, স্টাফ রিপোর্টার:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের আয়োজন করা বিক্ষোভ সমাবেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ছায়ায় ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর সশস্ত্র হামলার ঘটনা স্থানীয় চার সংগঠন তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
আজ, ৫ আগস্ট ২০২৫, প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) কেন্দ্রীয় সভাপতি অমল ত্রিপুরা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতি চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম সভাপতি জিকো ত্রিপুরা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই সশস্ত্র হামলা গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মৌলিক অধিকার লংঘন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, যাকে তারা ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন দিবস’ হিসেবে গণ্য করেন, উপলক্ষে খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কোয়ারে ইউপিডিএফের নির্ধারিত সমাবেশে সকালের মিছিল শেষে ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালায়। তাদের নির্বিচারে গুলিবর্ষণে পাঁচ৩ বছর বয়সী পূর্ণমুখী চাকমা ও শরবিন্দু চাকমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। আশ্চর্যের বিষয়, উপস্থিত থাকা পুলিশ হামলার সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, যা গভীর উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, দীঘিনালা, মহালছড়ি ও পানছড়ি থেকে আসা সমাবেশকারীদের পথরোধ করে বাধা দেওয়া ও গাড়ি আটকে ফেরত পাঠানো হয়, যা স্পষ্টতই গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের চক্রান্ত।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে উঠে এসেছে, ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন সত্ত্বেও পার্বত্য অঞ্চলে সামরিক ও প্রশাসনিক মদদে ঠ্যাঙাড়ে সন্ত্রাসীরা জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমনের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এই হামলার দায় অস্বীকারের সুযোগ নেই, বিশেষত স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। তারা অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানায়।
পরিশেষে তারা এই ঘটনার দ্রুত বিচার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।