নিজস্ব প্রতিবেদক, রাউজান (কদলপুর) | ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুরে রাজনৈতিক ভোল পাল্টানো দুই নেতার কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদন করে রাতারাতি দলবদল করা এসব ‘সুবিধাবাদী’ নেতাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও চায়ের টেবিলে বইছে নিন্দার ঝড়।
সুবিধাবাদের রাজনীতি ও পটপরিবর্তন: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কদলপুর এলাকার পরিচিত মুখ লাভলু বিগত ১৭ বছর সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগের প্রভাব বলয়ে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই নিজের অবস্থান বদলে ফেলেছেন তিনি। গত কয়েকদিনে তাকে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে।

জনমনে ক্ষোভ: লাভলুর এই আকস্মিক ডিগবাজিকে এলাকার সাধারণ মানুষ ‘মোনাফেকি’ ও ‘আদর্শহীন রাজনীতি’ হিসেবে দেখছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি নৌকার সময়ে নৌকা এবং ধানের সময়ে ধানের অনুসারী সেজে কেবল নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন।
সহযোগী হিসেবে ফরহাদ চৌধুরীর নাম: একই অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছেন মাইজ্জে মিয়ে চেয়ারম্যানের ছেলে ফরহাদ চৌধুরী। স্থানীয়দের দাবি, লাভলু এবং ফরহাদ চৌধুরী একই সূত্রে গাঁথা। ক্ষমতার পালাবদলে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে তারা এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে মরিয়া। এলাকায় প্রচার রয়েছে, “যেই দল ক্ষমতায় থাকে, এই চক্রটি সেই দলের চাটুকারিতায় লিপ্ত হয়।”
সামাজিক প্রতিক্রিয়া: কদলপুরের সচেতন যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের দাবি, এই ধরণের নীতিহীন ব্যক্তিদের কারণে ত্যাগী ও আদর্শিক কর্মীরা রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। এদের কর্মকাণ্ডকে ‘রাজনৈতিক বেশ্যাবৃত্তি’ আখ্যা দিয়ে অনেক ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকায় দাবি উঠেছে, এদের মতো সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিদের জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে বহিষ্কার করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষমতার দাপটে আদর্শ বিক্রি করতে না পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরণের ‘হাইব্রিড’ বা ‘সুবিধাবাদী’ নেতাদের যদি এখনই রুখে দেওয়া না হয়, তবে কদলপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদী সংকটে পড়বে।