ঋণ জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের দায়ে টি এস আইয়ুবের প্রার্থিতা অনিশ্চিত: চেম্বার আদালতে আবেদন না-মঞ্জুর
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুবের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ঢাকা ব্যাংক পিএলসি থেকে ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ, মানি লন্ডারিং মামলা এবং উচ্চ আদালতে তথ্য গোপনের অভিযোগে তার সিআইবি (CIB) আনক্লাসিফাইড করার আবেদন আজ চেম্বার জাজ আদালতে না-মঞ্জুর করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অর্থ আত্মসাৎ
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি থেকে এলসি (LC) জালিয়াতির মাধ্যমে ২১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে টি এস আইয়ুবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় তিনি প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত হন। পাওনা টাকা আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি ঢাকা আদালত-৩ এ অর্থ ঋণ মামলা (নম্বর ২৬০/১৮) দায়ের করলে ব্যাংকটির পক্ষে রায় ও ডিক্রি হয়। বর্তমানে ব্যাংকের পাওনা ৩৮ কোটি টাকা আদায়ের জন্য একটি অর্থজারী মামলা চলমান রয়েছে।
উচ্চ আদালতে জালিয়াতি ও তথ্য গোপন
ঋণ খেলাপি থাকার কারণে নির্বাচন কমিশন ও আইনি জটিলতা এড়াতে টি এস আইয়ুব হাইকোর্ট বিভাগে একটি সিভিল রুল (নং ৫৭৭ (এফ এম)/২০২৫) দাখিল করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি উচ্চ আদালতে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি ৩৮ কোটি টাকা সুটভ্যালুর স্থলে মাত্র ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উল্লেখ করেন এবং ঢাকা ব্যাংকের মামলার আরজির পরিবর্তে জনতা ব্যাংকের একটি মামলার আরজি দাখিল করে প্রতারণাপূর্বক গত ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সিআইবি আনক্লাসিফাইড করার আদেশ লাভ করেন।
চেম্বার আদালতের স্থগিতাদেশ
এই জালিয়াতির বিষয়টি নজরে এলে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি চেম্বার জাজ আদালতে সিভিল পিটিশন (নং ৪৬৯১/২০২৫) দাখিল করে। গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মাননীয় চেম্বার জাজ রেজাউল হক হাইকোর্টের পূর্ববর্তী আদেশটিকে আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন।
আজকের শুনানি ও বর্তমান অবস্থা
গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে টি এস আইয়ুব চেম্বার জজের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের (Vacating) জন্য আবেদন করেন। আজ উক্ত আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে টি এস আইয়ুবের আবেদনটি না-মঞ্জুর করে দেন।
আইনজীবীদের মতে, চেম্বার আদালত কর্তৃক স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় এবং সিআইবি রিপোর্ট ‘ডিফল্টার’ বা খেলাপি হিসেবে গণ্য হওয়ায় আইনিভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার আর কোনো সুযোগ থাকল না।