প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২৫
Daily Bangladesh Prothom Sangbad
✍️ নাজমুল হাসান
বারোপোতায় জরুরি কর্মী সমাবেশ:
“৫ জুলাইয়ের আগের নেতা হোক, বা পরের — দল আগে, দলীয় শৃঙ্খলা আগে” — আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের স্পষ্ট বার্তা
যশোরের শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে গত ৩ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার, বারোপোতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক তাৎপর্যপূর্ণ জরুরি কর্মী সমাবেশ।
সভার সভাপতিত্ব করেন মফিজুর রহমান, সভাপতি, পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপি এবং সঞ্চালনায় ছিলেন আবুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক, একই ইউনিটের।
জনতাকে শানিত বার্তা দিয়ে আলোড়ন তোলেন আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন
সমাবেশের মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন, সাধারণ সম্পাদক, শার্শা উপজেলা বিএনপি। তাঁর বক্তব্য ছিল বাস্তবতা-মুখর, আত্মসমালোচনামূলক এবং সংগঠনের ভিত মজবুত করার ডাক। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন:

> “এই ১৫ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর যে ভয়াবহ নির্যাতন হয়েছে—পুলিশি হামলা, মামলা, হামলা-গ্রেপ্তার—তা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। কিন্তু আমরা আত্মসম্মান হারিয়ে ফেলছি, এক ভাই আরেক ভাইকে মারছে, খুন করছে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
“পাঁচ তারিখের আগে-পরে” বিতর্কে দৃঢ় অবস্থান
লিটন সাহেব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন দলের অভ্যন্তরে সময়ভিত্তিক বিভাজন নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি:
> “৫ জুলাইয়ের পরে যারা রাজনীতিতে এসেছেন তারা আজ নেতা, আর যারা ১৫ বছর আগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে ছিলেন, তারা আজ কোণঠাসা? এটা তো অন্যায়!”
এই মন্তব্যে মাঠে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা উল্লাসে হাততালি দিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
তিনি যোগ করেন:
> “দল একটাই, মার্কাও একটাই। যাকেই দল মনোনয়ন দেবে, আমরা সবাই তার পক্ষে একযোগে কাজ করব। মার্কার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
নতুনদের প্রতি হুঁশিয়ারি
বক্তৃতার শেষ অংশে ৫ তারিখের পর যারা দলে এসেছেন—তাদের প্রতি ছিল স্পষ্ট বার্তা:
> “আপনারা যদি দলের আদর্শ বুঝে কাজ না করেন, শৃঙ্খলা না মানেন, তাহলে এই দলে আপনাদের কোনও স্থান থাকবে না। বিএনপি একক কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়—এটা শহীদের রক্তে গড়া আদর্শের সংগঠন।”
বার্তাটি কেবল কর্মীদের জন্য নয়, পুরো দলের জন্য এক Wake-Up Call
এই সমাবেশ আর লিটন সাহেবের বক্তব্য শুধু তাৎক্ষণিক প্রশংসা কুড়ায়নি, বরং অনেককে চিন্তিত করেছে —
দলের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ভোগবাদী নেতা, বিশৃঙ্খল কর্মী, ও মতলববাজ নবাগতদের প্রতি এটি ছিল এক প্রকার রাজনৈতিক আল্টিমেটাম।
বিশ্লেষণ:
আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের বক্তব্যের তিনটি মূল বার্তা স্পষ্ট:
1. আত্মসম্মান ফিরে পাওয়ার সময় এখনই।
2. পদ-পদবীর লোভ নয়, আদর্শের প্রতি আনুগত্য দরকার।
3. দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
📷 ছবিতে দেখা গেছে, প্রাঙ্গণজুড়ে উপস্থিত কর্মীরা লিটন সাহেবের বক্তব্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ “দল আগে, আমি পরে” লেখা ব্যানারও ধারণ করেন।
📝 Nazmul Hassan-এর মন্তব্য:
“এই ধরনের নেতৃত্বই দলের পরিপক্বতার প্রতিচ্ছবি। লড়াই কেবল মাঠে নয়, ভেতরেও আদর্শের মেরামত প্রয়োজন—আর লিটন সাহেব সেই কাজটাই শুরু করেছেন।