আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে সরকারি বিতর্কিত মনোনয়ন: সোহানুর রহমানকে কেন্দ্র করে তরুণ সমাজে বিভেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের জলবায়ু প্রতিনিধিত্ব ও সরকারি মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তরুণ সোহানুর রহমানকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে দেশের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন প্রদানকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ ও পূর্ববর্তী প্রভাবকে ঘিরে।
সূত্র জানায়, সোহানুর রহমান একসময় ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ওই সময় থেকেই তিনি জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, তাঁর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক সংযোগ এবং বিভিন্ন স্বার্থপর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই মনোনয়ন বাস্তবায়িত হয়েছে।
যুব সমাজের একাংশ এই মনোনয়নকে অবৈধ প্রভাব ও পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন। নাগরিক সমাজের একটি অংশের মন্তব্য, “যারা পূর্ববর্তী সরকারের সময় বিশেষ সুবিধাভোগী ছিলেন, তাদের আবারও প্রতিনিধি হিসেবে দেখা গেলে সাধারণ তরুণদের আস্থার সংকট তৈরি হয়।”
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আগেই জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গঠিত তহবিলের ব্যবহার জবাবদিহি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। ২০১০–২০২৪ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত প্রকল্পের প্রায় ৫৪ শতাংশ অর্থ অনিয়ম-দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “জলবায়ু তহবিল এখন রাজনৈতিক প্রভাবের একটি নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠছে—যা সুশাসনের জন্য হুমকি।”
প্রসঙ্গত, সোহানুর রহমানের সঙ্গে সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়ের পরিচয় ও সখ্যতার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন। এই বিষয়টি তরুণ সমাজের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
জুলাই নাগরিক সমাজের সদস্য ইউসুফ জোবায়ের বলেন, “জলবায়ু আন্দোলনের নামে পুরনো রাজনৈতিক সংযোগ ও সুবিধাভোগী শ্রেণির প্রভাব এখনও বিদ্যমান—যা নতুন সরকারের ভাবমূর্তির সঙ্গে যায় না।”
এক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এখন কেবল পরিবেশগত প্রশ্ন নয়, এটি সামাজিক প্রভাব, বিদেশি যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার মাধ্যম।”
তরুণ সমাজের আশঙ্কা, যদি প্রতিনিধি নির্বাচন ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে জলবায়ু ন্যায়বিচারের পেছনে লুকিয়ে থাকা প্রভাবের রাজনীতি ভবিষ্যতের তরুণদের আস্থা ও বিশ্বাসকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
—