তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নাজমুল হাসান সিনিয়র এডিটর :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষ করে অক্টোবরে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে এখনও এ নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো ঘোষণা আসেনি, ফলে অনিশ্চয়তা বহাল রয়েছে।
বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তবে দলটির অন্য একাংশের মতে, তিনি দেশে ফিরবেন নির্বাচনকালীন সময়সূচি ঘোষণার পর।
আইনগত দিক থেকেও তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বড় বাধা নেই বলে জানা গেছে। কয়েকটি আলোচিত মামলায় ইতোমধ্যেই তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। বিশেষত ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হাইকোর্ট বাতিল করেছে এবং আপিল বিভাগও তা বহাল রেখেছে।
এদিকে ঢাকায় তার স্থায়ী বাসভবন ও রাজনৈতিক কার্যালয় নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে নিরাপত্তা ও কিছু ব্যক্তিগত জটিলতা এখনও সমাধান বাকি রয়েছে। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনাও চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে যে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই তিনি দেশে ফিরবেন। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা সরকারি সংস্থা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করেনি। নির্বাচন কমিশন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনগত জটিলতা অনেকটাই কেটে যাওয়ায় তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। বিএনপি চাইছে নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক রহমানের দেশে ফেরা দলীয় কর্মীদের জন্য নতুন উদ্দীপনা তৈরি করুক। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তা ইস্যুগুলো সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তারেক রহমান দেশে ফিরলে তা নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে। নির্বাচনের আগে তার উপস্থিতি বিএনপির জন্য জনসমর্থন বাড়ানোর হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে যা জানা যাচ্ছে তা হলো, তারেক রহমান দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং আইনগতভাবে বড় বাধা আর নেই। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফেরার দাবি এখনও নিশ্চিত নয়। বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, তিনি নির্বাচনকালীন সময়সূচি ঘোষণার পর ফিরবেন। ফলে নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে হচ্ছে।