০৮ আগস্ট ২০২৫, ২২:১৫
মোঃ কামাল হোসেন প্রধান, জেলা প্রতিনিধি, নরসিংদী
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলার চার আসামী গ্রেফতার, ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বিচারের দাবি সাংবাদিক মহলের
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার চার আসামীকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ডিবি শাখা। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
১. মোঃ মিজান ওরফে কেটু মিজান
২. তার স্ত্রী গোলাপি
৩. মোঃ স্বাধীন
৪. আল-আমিন
জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের সনাক্ত করে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সংঘটিত এক হামলার দৃশ্য ধারণ করছিলেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন। এ সময় হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে নির্মমভাবে আক্রমণ চালায়, যার ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই পাঁচজনকে আটক করা হলেও মূল আসামিদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত ছিল।
দ্রুত ও সফল অভিযান পরিচালনার জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি শাখাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাংবাদিক মহল ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে দেশের সকল সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত ক্রসফায়ারে দিয়ে বিচারের কার্য সম্পন্ন করা হোক।
সাংবাদিক মহলের যুক্তি:
১. পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড – হত্যাকারীরা শুধু ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন সাংবাদিককে টার্গেট করেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
২. প্রমাণ স্পষ্ট ও অখণ্ড – সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা হত্যাকারীদের অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট, তাই আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা অপ্রয়োজনীয়।
৩. প্রভাবশালী অপরাধী চক্র – এরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং আইনের ফাঁক গলে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে লিপ্ত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।
৪. সাংবাদিক সমাজে ভয়ের পরিবেশ – এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে অন্যান্য সাংবাদিকদের উপর হামলা বৃদ্ধি পাবে এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা চরমভাবে হুমকির মুখে পড়বে।
৫. জনঅসন্তোষ প্রশমন – স্থানীয় জনগণও এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ, তাই দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আইনশৃঙ্খলার ওপর আস্থা কমে যাবে।