• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা শার্শার যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে শহীদ জিয়ার অবস্থান ও অবদান শুধু প্রমাণিত ইতিহাসই নয়, বরং দেশের শিক্ষা ও উন্নয়ননীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যারা আজ এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা শহীদ জিয়ার নয়—বাংলাদেশের ইতিহাসের বিরুদ্ধেই দাঁড়াচ্ছে

Reporter Name / ৫৪৭ Time View
Update : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫

 

গোপালগঞ্জে শহীদ জিয়ার অবস্থান ও শিক্ষা বিপ্লবের সূচনা: ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে দলিল

প্রতিবেদক: (ইশতিয়াক আহমেদ শাওনের তথ্যসূত্রে)

গোপালগঞ্জকে ঘিরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক অবদান সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট মহল দীর্ঘদিন ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে চলেছে। বলা হচ্ছে, তিনি নাকি কখনও গোপালগঞ্জে প্রবেশ করতে পারেননি, জনসংযোগ করতে পারেননি বা সেনাবাহিনীর সহায়তায় ফেরত আনা হয়েছিল। কিন্তু ঐতিহাসিক প্রমাণ ও দলিল বলছে, এসব বক্তব্য ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত।

ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র

প্রখ্যাত গবেষক রুহুল আমিন রচিত ১০০৮ পৃষ্ঠার গ্রন্থ “মৃত্যুঞ্জয়ী জিয়া”-এর ৪৮৩ নম্বর পৃষ্ঠায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর তৃতীয় বিপ্লব, অর্থাৎ “জাতীয় শিক্ষা বিপ্লব”-এর সূচনা করেন গোপালগঞ্জ থেকেই। সেখান থেকেই শুরু হয় গণশিক্ষা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।

অবশ্যই, নিচে দেওয়া হলো ছবিতে উল্লেখিত লেখাটি হুবহু:

৩। শিক্ষা বিপ্লব
প্রেসিডেন্ট জিয়ার ৩য় বিপ্লব ছিল শিক্ষা বিপ্লব। দুরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন যে শিক্ষা ছাড়া কোন জাতিই উন্নতি করতে পারে না, দাঁড়াতে পারে না নিজস্ব পায়ে। কোন জাতির নিরক্ষরতার দায়কে অভিশাপ। এ দেশের জনগণের জন্য নিরক্ষরতা ছিল নিষেধাজ্ঞা। বুদ্ধি ও বিজ্ঞানবিমুখ আগের শিক্ষা ব্যবস্থায় সুস্থ নীতি ছিল না। পাকিস্তানের হাত ঘুরে বাংলাদেশে উত্তরাধিকারে সুচে আসে বিভ্রান্তিকর একটি শিক্ষা ব্যবস্থা। ১৯৭৮ সালের জুলাই মাসে আন্দোলনের অঙ্গীকার পূর্ব প্রস্তাবিত বিষয়কে নিয়ে বাঁচাতে প্রেসিডেন্ট জিয়া ঘোষণা করেন শিক্ষা বিপ্লব শুরু। তার উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা। আজকে বাংলাদেশে অভিবাসী জনগণের যাত্রা হবে নিরক্ষর থেকে শিক্ষিত জনগণের আত্মপ্রকাশে। শিক্ষা বিপ্লবের কার্যক্রম হবার মানববন্ধ ছিল মানুষের মধ্যে সরকারকে সঙ্গে ছিল। এর ফলে নিরক্ষরতার অভিশাপ নিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়া অগ্রগতির পথে সহায়তা করেছেন।

একটি উপযুক্ত জাতির সার্বিক উন্নতির জন্য প্রয়োজন দেশের সকল জনগণের মধ্যে জাতীয় চেতনার উন্নয়ন ঘটানো। দেশের প্রতি নাগরিকের সামাজিক কর্তব্য, নাগরিক দায়িত্ব, জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেমের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এই জাতীয় চেতনা সৃষ্টির জন্য যে মৌলিক প্রয়োজন তা হচ্ছে শিক্ষা ও অক্ষরজ্ঞান লাভ করা।

যখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয় পুনর্গঠন ও সার্বিক অর্থগঠনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে সার্বিকভাবে জনগণের ক্ষমতায়ন দান না করা হলে তাদের মধ্যে জাতীয় চেতনার সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তাই তিনি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে গণশিক্ষা কার্যক্রমকে সরকারিভাবে কার্যকর করেন এবং বিপ্লবের ৩য় স্তর হিসেবে ঘোষণা করেন গণশিক্ষা কর্মসূচি। ১৯৮০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ দিবসে গোপালগঞ্জের সাতপাড়ে নিরক্ষরতা দূরীকরণের অতুলন উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী শুরু হয় নিরক্ষরতা দূরীকরণ অভিযান। তিনি প্রতিটি স্কুলে, মসজিদে, কলেজে, মাদ্রাসায় এবং পাড়া-পাড়ায় গণশিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করেন।

জাতীয় উন্নয়নে ও শান্তিপূর্ণ বিপ্লবে প্রেসিডেন্ট জিয়া #৪৮৩

শিক্ষা বিপ্লবের সূচনা

১৯৭৮ সালের শেষ দিকে “শিক্ষা সবার জন্য” শ্লোগান সামনে রেখে জিয়াউর রহমান চালু করেন “জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ”। এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায় শুরু হয় গোপালগঞ্জ জেলা থেকে।
মূল কার্যক্রমের মধ্যে ছিল—

গোপালগঞ্জে জনসমাবেশে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা

‘এক গ্রামে এক স্কুল’ প্রকল্পের পাইলট হিসেবে গোপালগঞ্জকে নির্বাচন

কারিগরি ও টেক্সটাইল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা

উন্নয়ন কার্যক্রমের খতিয়ান

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গোপালগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য—

1. রাস্তাঘাট উন্নয়ন:
গোপালগঞ্জ সদর থেকে কোটালীপাড়া-মুকসুদপুর সড়কের পুনর্গঠন এবং মেরামত করা হয়।

2. কৃষি ও সেচ প্রকল্প:
দক্ষিণাঞ্চলের বিল ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। গোপালগঞ্জ কৃষি অফিসের উন্নয়ন বাজেট দ্বিগুণ করা হয়।

3. বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণ:
রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন প্রজেক্টের আওতায় কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার কিছু এলাকায় প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়।

4. মসজিদ ও মাদ্রাসা উন্নয়ন:
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে অন্তত ৪টি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়।

জনসভা ও সফর

১৯৭৯ সালের গোড়ার দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গোপালগঞ্জ সফর করেন। কোটালীপাড়ায় একটি বৃহৎ জনসভায় অংশগ্রহণ করে তিনি বলেন—

> “এই গোপালগঞ্জেই আমি দেখি বাংলাদেশের প্রাণ। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প—সবকিছু এখান থেকে ছড়াক।”

এই সফরে স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন তিনি।

ইতিহাস বিকৃতি ও প্রতিক্রিয়া

বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একশ্রেণির চিহ্নিত মহল শহীদ জিয়ার এই অবদান অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। তারা এমন একটি বর্ণনা দাঁড় করাচ্ছে যেখানে তাকে গোপালগঞ্জে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয় অথবা সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে ফিরিয়ে আনা হয়—যা সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ইতিহাসের বিকৃতি।

গোপালগঞ্জে শহীদ জিয়ার অবস্থান ও অবদান শুধু প্রমাণিত ইতিহাসই নয়, বরং দেশের শিক্ষা ও উন্নয়ননীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যারা আজ এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা শহীদ জিয়ার নয়—বাংলাদেশের ইতিহাসের বিরুদ্ধেই দাঁড়াচ্ছে।

তথ্যসূত্র:

“মৃত্যুঞ্জয়ী জিয়া”, রুহুল আমিন, পৃষ্ঠা ৪৮৩

স্থানীয় প্রশাসনিক রেকর্ড ও সমকালীন সংবাদ প্রতিবেদনসমূহ

(এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বেনাপোল পৌর শাখার সেক্রেটারি ইশতিয়াক আহমেদ শাওনের তথ্য ও দলিলভিত্তিক বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি।)


More News Of This Category
bdit.com.bd