• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা

সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি বা ‘কোর কমিটমেন্ট’ তুলে ধরা হয়েছে।

নাজমুল হাসান চিফ ইন এডিটর / ৭৬ Time View
Update : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার উন্মোচন করেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি বা ‘কোর কমিটমেন্ট’ তুলে ধরা হয়েছে।

নিচে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়া হলো:

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬: ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি
বিএনপির এবারের ইশতেহার মূলত পাঁচটি ভাগে বিভক্ত এবং ৫১টি দফার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে এর প্রাণভোমরা হলো ৯টি বিশেষ অঙ্গীকার:

১. ফ্যামিলি কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার অঙ্গীকার করেছে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হবে অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই টাকার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।

২. স্বাস্থ্যসেবা ও ১ লাখ কর্মী নিয়োগ
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির আধুনিকায়ন করা হবে।

 

৩. কর্মমুখী ও সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষা
শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময় এবং কর্মমুখী করার লক্ষ্যে একটি নতুন শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করা হবে। মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ থাকবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত রাখার কঠোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

৪. যুবশক্তির উন্নয়ন ও স্টার্টআপ সাপোর্ট
তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড এবং গ্লোবাল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ থাকবে। সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

৫. কৃষি ও ‘কৃষক কার্ড’
কৃষকদের সুবিধার্থে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, জেলে ও পশুপালনকারীদের জন্যও বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।

 

৬. উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও রপ্তানি বৃদ্ধি
‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যকে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করতে ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন করা হবে। বিএনপি ঘোষণা করেছে যে তারা ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায়।

 

৭. পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা
আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে। এছাড়া নদী ও খাল পুনখননের মাধ্যমে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

৮. সুশাসন ও ক্ষমতার ভারসাম্য
বিএনপি অঙ্গীকার করেছে যে ক্ষমতায় গেলে একজন ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এছাড়া রাষ্ট্রে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা হ্রাস করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৯. পররাষ্ট্রনীতি: সবার আগে বাংলাদেশ
পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’। তবে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং তিস্তাসহ অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ইশতেহারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক
জুলাই সনদ: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন এবং বিচারের দাবিকে ‘জুলাই সনদ’ হিসেবে ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স: গত দেড় দশকের দুর্নীতির তদন্তে একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশ এবং পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

আইন-শৃঙখলা সংস্কার: পুলিশ ও প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা: ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সারসংক্ষেপ: বিএনপির ২০২৬ সালের ইশতেহার কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু রাষ্ট্র গড়ার রোডম্যাপ হিসেবে দাবি করছে দলটি।


More News Of This Category
bdit.com.bd