৯৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজশাহীর এএসপির বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজশাহী | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ৯৬ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজশাহীর সহকারী পুলিশ সুপার (গোদাগাড়ী সার্কেল) মির্জা মো. আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় তার স্ত্রী শাহানা পারভীনকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সোমবার রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শাহানা পারভীন তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন। তবে তদন্তে দুদক তার নামে ৯৫ লাখ ১৬ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পায়। সংস্থাটির অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে ৭৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে।
দুদকের হিসাবে, পারিবারিক ব্যয় বিবেচনায় শাহানা পারভীনের মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ৭৫০ টাকা। বিপরীতে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ফলে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫০ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি দুদকের।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, শাহানা পারভীন গৃহিণী হওয়ায় তার স্বামী মির্জা মো. আব্দুস সালাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে স্ত্রীর নামে সম্পদ বিনিয়োগ করেন এবং পরে সেগুলো বৈধ করার চেষ্টা করেন।
দুদক জানায়, ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ পাওয়ার পর দীর্ঘ তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মির্জা মো. আব্দুস সালাম বলেন, তাদের সব সম্পদ বৈধ এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। তার দাবি, শাহানা পারভীন উত্তরাধিকার সূত্রে ১৪ বিঘা জমি পেয়েছেন এবং ২০১৪ সাল থেকে নিয়মিত আয়কর পরিশোধ করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি বেনামি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং তদন্ত চলাকালে দুদকের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তার স্ত্রীর বাগবিতণ্ডার জের ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।