১৮ জুলাই: হাসিনা শাসনের পতনের টার্নিং পয়েন্ট, তারুণ্যের রক্তেই রচিত হয়েছিল মুক্তির পথ
ঢাকা, ১৮ জুলাই ২০২5 —
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৮ জুলাই এখন শুধুই আরেকটি দিন নয়—এটি এক নির্ভীক বিদ্রোহের নাম। এই দিনে, রাজধানীর রাস্তায় অস্ত্রধারী পুলিশ বাহিনীর মুখোমুখি হয়েছিল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্ররা। রাজনীতি থেকে অনেক দূরে থাকা সেই তরুণরাই দাঁত-নখে লড়েছিল, বুক পেতে রক্ত দিয়েছিল, তবু পিছু হটেনি।
তাদের কেউ কোনো মিছিলের নেতা ছিল না, কেউ চায়নি মঞ্চের আলো। তবু তারাই রচনা করেছে গণঅভ্যুত্থানের পূর্বপ্রস্তুতি।
সরকারের অজানা ছিল—মিডল ক্লাস আর আপার মিডল ক্লাসের এই শিক্ষার্থীরাই একদিন তাদের দুঃশাসনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেবে।
১৮ জুলাইয়ের সেই শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। শহরজুড়ে ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে রক্ত ঝরেছিল, জ্বলেছিল চোখ, কাঁপছিল জনপদ। কিন্তু জনগণ বুঝে গিয়েছিল—এই তরুণরাই ভবিষ্যৎ, এবং ভবিষ্যৎ আর পিছিয়ে নেই।
এই ঐতিহাসিক ঘটনার মূল্যায়ন করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন—
“১৮ জুলাই ছিল শেখ হাসিনার শাসনের টার্নিং পয়েন্ট। সেদিন যারা নিরস্ত্র হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল, তারা কিছু চায়নি—তাদের বিদ্রোহ ভেঙে দিয়েছে দেশের ভয়। সেদিনই পতন শুরু হয়েছিল, ৫ আগস্ট ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। এই নিঃস্বার্থ তরুণদের জন্য রইল গভীর শ্রদ্ধা—তাদের পথেই মুক্তির আশা।”
বিএনপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই আন্দোলনের কোনো রাজনৈতিক দখল চায়নি—বরং তরুণদের রক্তের প্রতি সম্মান রেখে তাদের দাবি-দাওয়ার পক্ষে শান্তিপূর্ণ সহযাত্রী ছিল।
দলটির নেতারা বলছেন, ১৮ জুলাই বা ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক মুহূর্ত আসতোই না, যদি তারেক রহমানের নির্দেশে দেশজুড়ে ৩১ দফা রূপায়ণ না হতো।
তার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে ছাত্র-জনতার মধ্যে একটি সুসংবদ্ধ বিবেক জেগে উঠেছিল।
সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েই সারাদেশের ক্যাম্পাসে তরুণেরা রুখে দাঁড়িয়েছিল।
বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে,
“যদি বিএনপি কামানার নেতৃত্বে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে না আসতো—এই মুক্তির সময় হয়তো আরও পিছিয়ে যেত।”
১৮ জুলাই ছিল শুধু একটি আন্দোলনের দিন নয়, ছিল একটি জাতীয় ঘুম ভাঙার দিন। রাজনৈতিকভাবে অবিচল, মানবিক দিক থেকে সম্মানজনক এবং ইতিহাসের নিরিখে যুগান্তকারী—এই দিনের তরুণ শহীদরা রেখে গেছেন সাহসিকতার এক বেদীমূল।
তাদের নাম নেই অনেকের, কিন্তু তাদের কাজেই লেখা হয়েছে ইতিহাস।
১৮ জুলাইয়ের সেই তারুণ্য, সেই রক্ত, সেই বিদ্রোহ—বাংলাদেশের স্বাধীন ভবিষ্যতের দীপ্ত আলো।