জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক :
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫, রবিবার
৩০০ আসনে দেড় হাজার প্রার্থী: বিএনপির মনোনয়নযুদ্ধ জমে উঠেছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে চলছে জমজমাট মনোনয়নযুদ্ধ। সরকার পতনের আন্দোলনের মধ্যেই দলের ভেতরে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রস্তুতির আরেক পর্ব। কেন্দ্রীয় নেতারা যেমন বাছাইয়ে ব্যস্ত, তেমনি সম্ভাব্য প্রার্থীরা সরব মাঠে-ময়দানে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে প্রায় ১০০ আসনে ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বিএনপি হাইকমান্ড। এসব আসনে মাঠের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের ওপরই আস্থা রেখেছে দল। তবে বাকি ২০০ আসনের জন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা পৌঁছেছে দেড় হাজারে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি আসনে ৭-৮ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আন্দোলন থেকে নির্বাচন— দুই ফ্রন্টেই প্রস্তুত বিএনপি
দলীয় সূত্র বলছে, আন্দোলনের ঘনঘটা চললেও বিএনপি নির্বাচন নিয়ে একেবারে উদাসীন নয়। চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে পাঁচটি মূল মানদণ্ড:
১. আন্দোলন ও সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ
২. স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা
৩. সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে দৃঢ় যোগাযোগ
৪. দলে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা
৫. সংসদে নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখার যোগ্যতা
এর পাশাপাশি ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, মামলা-হামলার ভুক্তভোগী হয়েছেন কিংবা দীর্ঘ সময় গুম-গ্রেফতার হয়ে ছিলেন—তাদের প্রতি রয়েছে বিশেষ অগ্রাধিকার।
মনোনয়ন বোর্ডে নজরদারি বাড়ছে, তৃণমূলের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ
তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় গঠিত মনোনয়ন বোর্ডে শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক পর্যবেক্ষকদেরও যুক্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় টিমের মাধ্যমে প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত, রাজনৈতিক ভূমিকা, জনসম্পৃক্ততা এবং দলের প্রতি আনুগত্য যাচাই করা হচ্ছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, আত্মীয়প্রীতি, আর্থিক লেনদেন কিংবা সুবিধাবাদী রাজনীতির কোনো স্থান থাকবে না। যারা আন্দোলনের সময় কৌশলে পাশে ছিল না, কিংবা নিজের অবস্থানকে নিরাপদ রাখতে আপস করেছে—তাদের নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় নেই।
মাঠে জরিপ চালাচ্ছেন তারেক রহমান নিজেই
তারেক রহমান নিয়মিত ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে মনোনয়ন বোর্ডের কাজ তদারকি করছেন। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে তিনি সরাসরি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে যাচাই করছেন প্রার্থীদের। ইতোমধ্যে তিন ধাপের জরিপ কার্যক্রম চালানো হয়েছে—
১. দলীয় জরিপ
২. স্থানীয় সাংবাদিকদের মূল্যায়ন
৩. একটি স্বাধীন সংস্থার বিশ্লেষণ
এই তিনটি সূচকের সমন্বয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানা গেছে।
কিছু আসনে হতে পারে ওপেন হিয়ারিং বা জনসাক্ষাৎ
বিশেষ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, কিছু নির্বাচনী এলাকায় “ওপেন হিয়ারিং” বা জনসাক্ষাতের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্তের চিন্তা করছে বিএনপি। স্থানীয় জনগণের মতামত যাচাই করে কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, সেটা স্পষ্ট করে নিতে এই পদক্ষেপ হতে পারে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত।
বিশ্লেষকের মত: স্মার্ট রাজনীতি করছে বিএনপি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি এভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়া বিএনপির “ডুয়েল ট্র্যাক স্ট্র্যাটেজি”-এর প্রতিফলন। আন্দোলন সফল হলে যেন নির্বাচনের ফল মুঠোয় ধরা যায়— সেই নিশ্চয়তা দিতেই এ প্রস্তুতি।
জবাবদিহিমূলক মনোনয়ন প্রক্রিয়া, নেতৃত্বের কঠোর পর্যবেক্ষণ এবং তৃণমূলের শক্তি—এই তিনে ভর করে বিএনপি ফের রাজনৈতিক মেরুকরণে নেতৃত্ব নেওয়ার প্রত্যাশা করছে। তাদের মতে, ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রাজনীতি এখন আর শুধু স্লোগানের খেলা নয়, এটি দায়িত্বের ভার। আর সেই ভার কাঁধে নিতে প্রস্তুত তাদের দেড় হাজার সৈনিক।