সীমান্তে বিজিবির নজরদারিতে ধরা পড়লো ভারতীয় মরণ নেশার ট্যাবলেট ‘টাপেন্টাডল’
বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ট্রাকযোগে মাদক প্রবেশের অভিযোগ, অদৃশ্য রয়ে গেছে মূল হোতারা
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে মাদক চোরাচালান যেন থামছেই না। সর্বশেষ বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কঠোর নজরদারিতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মরণ নেশার ট্যাবলেট ‘টাপেন্টাডল’ জব্দ করা হয়েছে। এই ভয়ংকর মাদক মানবদেহের ব্রেন, কিডনি, লিভার ও হার্টের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই একজন মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট পণ্যের আড়ালে ট্রাকযোগে এসব মাদক প্রবেশ করছে। অথচ প্রতিবারই ধরা পড়ছে বাহক বা ছোটখাটো কর্মীরা, কিন্তু মূল হোতা ও সীমান্তের এইচ-সিন্ডিকেটের সদস্যরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
কী এই টাপেন্টাডল?
টাপেন্টাডল একটি শক্তিশালী সিনথেটিক অপিওয়েড জাতীয় ব্যথানাশক, যা নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা ছাড়া গ্রহণ করলে মারাত্মক নেশা তৈরি করে। নিয়মিত সেবনে—
মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যেতে পারে
কিডনি ও লিভার স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
হৃদযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে
মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সহিংস আচরণ দেখা দেয়
বিশেষ করে তরুণ সমাজের জন্য এই মাদক নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে।
সীমান্তে সক্রিয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেনাপোল বন্দরের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে—
সীমান্ত এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি
পরিবহন ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন
এবং অদৃশ্যভাবে প্রভাবশালী মহল
জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
নাইটগার্ড ও শ্রমিকদের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
বেনাপোল বন্দরের নাইটগার্ড এবং হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন–৮৯১-এর কয়েকজন শ্রমিক দাবি করেছেন, তারা মাদক পারাপারের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম সম্পর্কে অবগত। তবে প্রশাসনের চলমান তদন্তের স্বার্থে আপাতত এসব নাম প্রকাশ করা হয়নি।
শ্রমিকদের ভাষ্য,
“আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। যদি সত্যিই ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা পরবর্তী পর্যায়ে নাম প্রকাশ করতে বাধ্য হব।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বারবার মাদক জব্দ হলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—
কেন ধরা পড়ছে না মূল গডফাদাররা?
কারা দিচ্ছে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সাপোর্ট?
এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট ব্যবস্থার কোথায় ফাঁক রয়ে গেছে?
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু বাহক ধরলে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং প্রয়োজন—
গভীর গোয়েন্দা তদন্ত
বন্দরের ভেতরে ও বাইরে নজরদারি বৃদ্ধি
সংশ্লিষ্ট সকলের সম্পদের হিসাব যাচাই
শেষ কথা
বেনাপোল সীমান্ত আজ কেবল বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার নয়, বরং মাদক কারবারিদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ করিডোরে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন যদি এখনই শক্ত অবস্থান না নেয়, তবে এই মরণ নেশা ধীরে ধীরে গ্রাস করবে পুরো সমাজকে।
এখন দেখার বিষয়—
প্রশাসন কি সত্যিকারের অভিযানে যাবে, নাকি সবকিছু আবারও চাপা পড়ে যাবে?