যাত্রাবাড়ীতে নারীর উপর নির্যাতন, অবৈধ ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগ: ‘সুমন’ নামধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
প্রতিবেদন:
৩১ জুলাই ২০২৫ | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর
একজন পেশাদার নারী আর্টিস্ট ও ভুক্তভোগী নাগরিক, নাম সুমাইয়া, বিস্ফোরক এক অভিযোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুমন নামের এক ব্যক্তির দ্বারা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন।

তার ভাষ্যমতে, সুমন শুধু একজন ব্যক্তিগত নির্যাতনকারীই নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে তাকে দিয়ে পরিচালনা করে আসছে অস্ত্র, মাদক ও দেহব্যবসা সংক্রান্ত নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড। সমাজের বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা হতো সুমাইয়াকে।
প্রমাণ লোপাট ও ভয়ংকর নির্যাতনের বিবরণ
ভুক্তভোগী জানান, তার কাছে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল, যা মোবাইল ফোনসহ সুমন জোরপূর্বক নিয়ে যায়। বহুবার তাকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে; এলাকাবাসী এসব দেখলেও ভয়ে মুখ খোলেনি। তিনি আরও জানান, “আমার বাচ্চার গায়ে পর্যন্ত হাত তুলেছে সে।”
পরিবার থেকেও সহযোগিতা না পাওয়ার যন্ত্রণা নিয়ে তিনি বলেন, “আমার ভাই-বোন কেউই সাক্ষী দিতে রাজি নয়, সবাই ভয়ে চুপ।”
থানায় অভিযোগ দিতেই নতুন অত্যাচার
৩০ জুলাই ২০২৫, যাত্রাবাড়ী থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে সুমন সেখানে উপস্থিত হয়ে থানার ভেতরেই তার উপর হামলা চালায়। উপস্থিত ছিলেন ২৫ জুনায়েদ নামে এক কর্মকর্তা, যিনি নির্বিকার ছিলেন। এমনকি ওসি (অফিসার ইনচার্জ) এর ভূমিকা ছিল রহস্যজনকভাবে নীরব, যা স্পষ্ট করে — থানা হয়ে উঠেছে নির্যাতকের ছায়াতল।
সুমাইয়া তার শারীরিক আঘাতের চিত্র সরবরাহ করেছেন, যেখানে দেখা যায় তার হাত ও পা ভাঙা, শরীরজুড়ে নীলচে দাগ, রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন।
‘বিএনপি পরিচয়’ আর বাস্তবতা
সুমনের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। সে নিজেকে বিএনপির কর্মী পরিচয় দিলেও, দলীয় সূত্র স্পষ্ট করেছে যে বিএনপি কখনো নারীর বিরুদ্ধে অন্যায়কারী, চাঁদাবাজ কিংবা অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। বিএনপি বরাবরই নারীর সম্মান ও নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তারেক রহমানের বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান
এই ঘটনার দিন, ৩১ জুলাই ২০২৫, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীর অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন, যেখানে তিনি স্পষ্ট করেন —
> “নারীর প্রতি সহিংসতা বা অপমানের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা কখনো জাতির পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, কিংবা বিএনপির চিন্তা ও চেতনার অংশ হতে পারে না।”
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকে আহ্বান
আমরা, দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ, এই বক্তব্যকে প্রেক্ষিত ধরে যাত্রাবাড়ী থানার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি:
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ করে সুমন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
থানায় ঘটনার সময় উপস্থিত অফিসার ২৫ জুনায়েদ এবং ওসির নির্লিপ্ততা তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ সুরক্ষা দিতে হবে।
অবিলম্বে রাষ্ট্রকে দেখাতে হবে — নারীকে অবৈধ ব্যবসার হাতিয়ার বানানো হলে তার ফল হবে আইন ও বিচার অনুযায়ী কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক।
বাংলাদেশের প্রতিটি নারী যেন নিরাপদ বোধ করে, এবং অপরাধীরা কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয় দিয়ে পার পেয়ে না যায় — এটাই আজকের বাংলাদেশের জন্য জাতীয় অঙ্গীকার হওয়া উচিত।