মুন্সিগঞ্জ ঢালীবাড়িতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা।
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি – মুন্সিগঞ্জ টঙ্গীবাড়ী উপজেলা পাইকপাড়া ঢালীবাড়ি এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সিনিয়র চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বাদীনি ফিরোজা বেগম এর অভিযোগ।
ভুক্তভোগী তথ্য সূত্রে দেখা যায়, সি.আর মামলার নং ৩৩০ ধারা- ৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৩৮০/৩৫৪/৫০৬/ বিবাদী আসামিরা হলেন, ১/মোঃ সাগর ঢালী (৪২) পিতা: বাচ্চু ঢালী ২/ খাদিজা বেগম (২৭) স্বামী মোঃ সাগর ঢালী ৩/ সেলিনা বেগম (৫৫) স্বামী শাহাবুদ্দিন।
অভিযুক্ত বাদীপক্ষে বিনীত নিবেদন এই যে, ১নং আসামী বাদীর বড় পুত্র মোঃ সাগর ঢালী ও ২নং আসামী বাদীর পুত্রবধূ ১নং আসামীর স্ত্রী ৩নং আসামী ১নং আসামীর শ্বাশুড়ী। বাদীর অসুস্থ্য ও বয়স্ক স্বামী ১নং সাক্ষী। আসামীগণ ঢাকায়
অবস্থান করে এবং বাদী ও ১নং আসামী পিতা-মাতাকে কোন দেখাশুনো করে না এবং তাহাদের কোন। খোরপোষও করে না। বাদীর বাড়ীতে আসামীদের কোন ঘর-দরজা নাই। আসামীরা ঘর-দরজা বিক্রী করিয়া বাদী বাড়ী হইতে চলিয়া গিয়াছে। আসামীরা আরও অজ্ঞাত লোকজনসহ বিগত ০৬/০৬/২০২৫ ইং তারিখ বেলা ১১.০০ ঘটিকার সময় বাদীর বাড়ীতে আসিয়া বাদীর বসত ঘরে ঢুকিয়া বাদী ও ১নং সাক্ষীকে ১নং আসামী বলে, “বাড়ীর দলিল দে ও পাঁচ লক্ষ টাকা চাদা দে।” এই বলিয়া বাদী ও ১নং সাক্ষীকে বকাবকি করতে শুরু করে। বাদী: ও বাদীর স্বামী আসামীদের বাড়ীর দলিল ও পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে পারিবে না বলিলে, ২নং আসামী খাদিজা হুকুম দেয়, “ওগো বটি দিয়া কোপাইয়া কাইটা ফালা। বলিয়া বটি নিয়া ২নং আসামী বাদী ও ১নং সাক্ষীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাড়াইয়া আসে। ১নং আসামী মোঃ সাগর ঢালীর হাতে থাকা লোহার রড দিয়া ১নং সাক্ষীকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপুর্যুপরি বারি মারিলে ১নং সাক্ষীর কপালে লাগিয়া কাটিয়া গিয়া। রক্তাক্ত জখম করে এবং আরেকটি বারি নাকে লাগিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম ও নাকের হাঁড় ভাঙ্গিয়া জখম হয়।
২নং বিবাদী খাদিজা বেগম বাদীকে চুলের মুঠি ধরিয়া ঘুরাইতে থাকে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাখি মারিয়া নীলা-ফুলা জখম করে এবং ২নং বিবাদী খাদিজা বেগম হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর খাম পায়ের গোড়ালির উপরের অংশে কামড় দিয়া মাংস তুলিয়া নিয়া যায় এবং গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ১নং আসামী সাগর ঢালী লোহার রড দিয়া ব্যাসীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও কোমরে বাইরাইয়া নীলা-ফুলা জখম করে। ২নং আসামী খাদিজা বেগম বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় চাপ দিয়া ধরিয়া রাখিয়া শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। বাদী ও ১নং সাক্ষীর আর্তচিৎকারে সাক্ষী সোহাগ, আপন ওরফে সৈকত, জান্নাতুল ওরফে জান্নাত ও মনিরা ওরফে সম্পা বাদী ও ১নং সাক্ষীকে রক্ষা করিতে আগাইয়া আসিলে ১নং আসামী মোঃ সাগর ঢালী ২নং সাক্ষী
সোহাগকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় চাপ দিয়া শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারিয়া মারাত্মক জখম করে। ৩নং সাক্ষী আপন ঢালী ওরফে সৈকতকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১নং আসামী মোঃ সাগর ঢালী লোহার রড দিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে বাইরাইয়া নীলা-ফুলা জখম করে। সাক্ষী জান্নাতের কোলে থাকা দুই বছরের কন্যা সন্তান ওমামাকে ২নং বিবাদী খাদিজা বেগম জোর করিয়া কাড়িয়া নিয়া মাটিতে আছাড় দিয়া ফেলিয়া দিলে শিশু কন্যা ওমামা পায়খানা-প্রস্রাব করিয়া দেয়। জান্নাতুল ওরফে জান্নাত দুই মাসের অন্তঃসত্বা অবস্থায় জান্নাতের পেটে ২নং আসামী খাদিজা বেগম উপুর্যুপরি লাথি মারিলে সাক্ষী জান্নাতের পেটে গুরুতর আঘাত লাগিয়া যৌনিপথে রক্ত চলিয়া আসে। বাদীর ঘবে রক্ষিত কোরবানীর গরু কেনার ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা আসামী মোঃ সাগর ঢালী নিয়া যায়। বিবাদী খাদিজা বেগম বাদীর আলমারীর ড্রয়ারে থাকা বাদীর ব্যবহারের একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল ১২ আনার দাম ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা, দুইটি স্বর্ণের চেইন দেড় ভরি দাম অনুমান ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা নিয়া যায়। ১নং বিবাদী সাগর ঢালী সাক্ষী সম্পাকে শ্লীলতাহানী করার জন্য কাপড়চোপর টানাটানি করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মারিয়া
নীলা-ফুলা জখম করে। ২নং বিবাদী খাদিজা বেগম সাক্ষী সোহাগের যৌনাঙ্গে চাপ দিয়া হত্যার চেষ্টা করে। আসামী সেলিনা বেগম সাক্ষী সোহাগকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়া উপুর্যুপরি বাইরাইলে হাতে পায়ে ও কাধে আঘাত লাগিয়া নীলা-ফুলা ও কালো জখম হয়। বিবাদী সেলিনা বেগম ১নং সাক্ষীকে কিল-ঘুষি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা-ফুলা জখম করে। আসামী খাদিজা বেগম সাক্ষী সম্পার গলায় থাকা দেড়ভরী ওজনের স্বর্ণের চেইন দাম অনুমান ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা নিয়া যায়। আসামী সেলিনা বেগম ভিক্টিম সোহাগের একটি মোবাইল ফোন যার মূল্য ২৬,০০০/- (ছাব্বিশ হাজার) টাকা নিয়া যায়।
আসামীরা ১১.০০ ঘটিকা হইতে ১১.৩০ ঘটিকা পর্যন্ত উক্ত ঘটনা ঘটায়। বাদী ও ভিক্টিমদের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও কতক সাক্ষী আগাইয়া আসিলে আসামীরা বাদী ও ভিক্টিমদের জীবননাশের হুমকি দেয় এবং ১নং আসামী মোঃ সাগর ঢালী বলে, “আগুন দিয়া বাড়ী-ঘর জ্বালাইয়া দিবে।” বলিয়া চলিয়া যায় বাদী ও ভিক্টিমগণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টঙ্গীবাড়ী, মুন্সীগঞ্জে চিকিৎসা নেয় অত্র সাথে চিকিৎসার কাগজপত্র এবং বাদী ও ভিক্টিমদের শরীরের আঘাতের চিহ্ন সম্বলিত আলোকচিত্র দাখিল করা হইল। আসামীরা ভিক্টিমদের মারপিট করে তাহার ভিডিও ফুটেজ আছে। বাদী থানায় মামলা করিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করিয়া মামলা না নেওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করা হইল বাদী চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় এবং থানায় মামলা না নেওয়ায় ও পবিত্র ঈদুল আযহার কারণে বিজ্ঞ আদালত সরকারীভাবে বন্ধ থাকায় বাদী মামলা দায়েরে বিলম্ব হই।
এঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে বাদীপক্ষ ফিরোজা বেগম জানান, সিনিয়র চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে সুস্থ ও ন্যায় বিচার আসামিদের গ্রেফতার ও পরোয়ানা ইস্যু বিলম্বে দাবী জানাই।