২৮ আগস্ট ২০২৫, ১১:২০
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
মাদক সম্রাজ্ঞী রমা এখনও ধরাছোঁয়ার বাহিরে, রহস্যজনিতভাবে ঘনঘন ভারত যাত্রা
চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত রমা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের ছায়া নেমে এসেছে। অবৈধ মদ ও ইয়াবা ব্যবসা, নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী পরিচালনা, কোটি কোটি টাকার মানি লন্ডারিং—সবই অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।
রমার স্বামী অনুপ বিশ্বাস বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ২০০৫ সালে চোলাই মদ ও ইয়াবার ব্যবসা শুরু করেন কোতোয়ালী থানার ফিশারিঘাট এলাকার ১২৮ নম্বর ইকবাল রোডে। তবে শুরুর দিকে এলাকার যুবকদের বিনামূল্যে মদ সরবরাহ করে আসক্ত করা হতো, পরে তা বিক্রি করে ব্যবসা প্রসারিত হয়।
নিজ এলাকায় রমা গড়ে তোলেন একটি ক্যাডার বাহিনী, নেতৃত্বে ছিলেন সহযোগী সাগর দাশ। প্রতিবাদ করলে ঝাঁপিয়ে পড়ত এই বাহিনী। জানা গেছে, সাগরের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ৭–৮টি মামলা বিচারাধীন।
২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল অনুপ বিশ্বাসের মদের মহালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০০ লিটার মদসহ কয়েকজনকে আটক করে। কিন্তু ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাবে তারা দ্রুত মুক্তি পান। র্যাব ও পুলিশের একাধিক অভিযানে মাদক উদ্ধার হলেও ব্যবসা বন্ধ হয়নি।
রমা ও তার পরিবার বর্তমানে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। তাদের দমদম ভিআইপি রোডে বিলাসবহুল বাড়ি, দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি, দার্জিলিংয়ে সন্তানদের বিলাসী জীবনযাপন এবং নিয়মিত ভারত যাতায়াত ও জমি ক্রয় করা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলা মদের ব্যবসা থেকেই রাতারাতি ‘মাদকের রানি’ হয়ে ওঠেন রমা। পূর্ববর্তী সরকার আমলে রাজনৈতিক নেতাদের সাহায্যে তার ব্যবসা প্রসারিত হয়, যার বিনিময়ে তারা দামী উপহার পান। কিছু অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা তাকে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভেজাল মদে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও রমার প্রভাবশালী দাপটে ব্যবসা পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে। নামমাত্র লাইসেন্স বাতিল হলেও তিনি অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে মদ ব্যবসা খোলার তোড়জোড় চালাচ্ছেন। প্রতিবেদকের ফোন রিসিভ করে কেটে দেন রমা বিশ্বাস এবং সংবাদ প্রকাশের হুমকিও দিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, “বহু মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও রমার ব্যবসা বন্ধ হয়নি। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া এ সাম্রাজ্য ভাঙা সম্ভব নয়।”