ভাইবোনছড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে লাঠি-ঝাড়ু মিছিল: নারী নিরাপত্তা ও সেনা-সেটলার প্রত্যাহারের দাবিতে উত্তাল জনসভার ঘোষণা
রিপোর্ট | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর | ৩১ জুলাই ২০২৫
খাগড়াছড়ি জেলার ভাইবোনছড়ায় অষ্টম শ্রেণির এক পাহাড়ি স্কুলছাত্রীকে ছয়জন সেটলার কর্তৃক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে এবং ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও সাজা কার্যকরের দাবিতে আজ বুধবার (৩০ জুলাই) খাগড়াছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের উদ্যোগে লাঠি ও ঝাড়ু মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘পাহাড়ে নারী নিরাপত্তার প্রধান হুমকি সেনা-সেটলার প্রত্যাহার কর’—এ স্লোগান সামনে রেখে মিছিলটি সদর উপজেলা পরিষদ গেট থেকে শুরু হয়ে চেঙ্গী স্কয়ার পর্যন্ত যায় এবং পরে পুনরায় উপজেলা গেটে এসে সমাপ্ত হয়।
চেঙ্গী স্কয়ারে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের জেলা আহ্বায়ক এন্টি চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাঞ্জল চাকমা এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য অর্পনা চাকমা।
এন্টি চাকমা বলেন,
“যখন রাষ্ট্র ধর্ষকদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তখনই আমাদের লাঠি-ঝাড়ু হাতে রাজপথে নামতে হয়। আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদের নিজের শরীরের নিরাপত্তার জন্যও আন্দোলন করতে হচ্ছে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন—”যদি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সত্যিকারের স্বাধীনতা অর্জিত হয়ে থাকে, তাহলে ভাইবোনছড়ার মেয়েটি কেন গণধর্ষণের শিকার হবে? পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি দখল ও নারী নিপীড়ন কেন থেমে নেই?”
তিনি অবিলম্বে সকল ধর্ষকদের “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে” দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেনা-সেটলার প্রত্যাহারের দাবি জানান।
প্রাঞ্জল চাকমা বলেন,
> “ভাইবোনছড়ার ঘটনার পর মাত্র চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকি দু’জন এখনো পলাতক। প্রশাসনের তৎপরতায় আমরা কোন আন্তরিকতা দেখছি না। বরং মনে হচ্ছে লোকদেখানো গ্রেফতার চলছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন—বান্দরবানে চিংমা খেয়াংকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার বিচার হয়নি। আবার গুইমারায় ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
> “পাহাড়ে ধর্ষকদের পাহারাদার যেন এখন সেনাবাহিনী।”
অর্পনা চাকমা বলেন,
> “পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু অপরাধীরা বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। কারণ, এখানে ধর্ষণকারীদের অপরাধী হিসেবে দেখা হয় না। বরং আইনের মাধ্যমে তাদের রক্ষা করা হয়।”
তিনি বলেন—ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেও পার্বত্য চট্টগ্রামে যেন সেই নিপীড়ন অব্যাহত আছে।
> “গুইমারায় যৌন হয়রানির শিক্ষককে গ্রেফতার না করে সেনাবাহিনী গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল—এটাই প্রমাণ করে পাহাড়ে আজো ফ্যাসিবাদ বহাল।”
সারাংশে দাবিসমূহ:
ভাইবোনছড়ার স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় পলাতক দুই ধর্ষককে অবিলম্বে গ্রেফতার
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত
পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা-সেটলার প্রত্যাহার
নারী নিরাপত্তা রক্ষায় পাহাড়ে কার্যকর প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামো গঠন
খাগড়াছড়ির জনপদ আজ ফের দেখলো পাহাড়ি নারীর গর্জন। এ যেন শুধুই প্রতিবাদ নয়—একটি দীর্ঘস্থায়ী রাষ্ট্রীয় অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায়ের দাবিতে বজ্রকণ্ঠের আহ্বান।
প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর