তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
প্রকাশক: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর
গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান ফেসবুকে ঘোষণা করলেন:
“বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্লাটফর্ম এখন বৈষম্য তৈরির কারখানা”
নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতায় প্লাটফর্মের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে স্থগিতের দাবি
গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিস্ফোরক পোস্টে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামে প্রতিষ্ঠিত প্লাটফর্মটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
২০২৪ সালের ছাত্র রাজনীতির এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্লাটফর্মটি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং নিজের আদর্শ ও পবিত্রতা হারিয়ে দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
রাশেদ খান বলেন,
“আজকের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আর আন্দোলন নয়, বরং এটি এক বৈষম্য সৃষ্টির কারখানা হয়ে উঠেছে। নেতৃত্বে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা হারিয়ে যাওয়া এবং সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কারণে এই প্লাটফর্মের পবিত্রতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে স্থগিত করা উচিত।”
চাঁদাবাজি ও তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ
রাশেদ খান আরও বলেন,
“সমন্বয়ক ও ছাত্র প্রতিনিধির পরিচয়ে গড়ে উঠেছে এক প্রভাববাণিজ্যিক সিন্ডিকেট, যা চাকরি, বদলি ও প্রশাসনিক নিয়োগ-প্রমোশনে তদবির চালাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারদলীয় পর্যায়ে সুবিধা আদায়ের জন্য লবিং করা হচ্ছে, যা প্লাটফর্মের সার্বজনীন চরিত্রের সাথে সাংঘর্ষিক।”
এই অভিযোগগুলো এসেছে তাদেরই মুখ থেকে, যারা একসময় এই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে রক্ত দিয়ে এই প্লাটফর্ম গড়েছিল।
মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের মতো ছায়া
রাশেদ খান আরও উল্লেখ করেন,
“এই প্লাটফর্ম আজকের দিনে দ্বিতীয় ‘মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চ’ হয়ে গেছে, যেখানে ক্ষমতার ছায়ায় বসে থাকা সুবিধাবাদীরা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। এটি একটি দুঃখজনক কিন্তু বাস্তবতা।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“প্লাটফর্মটিকে কেউ ‘নিজের’ মনে করে না, অথচ এটি হওয়া উচিত ছিল ইতিহাসের গৌরব ও ছাত্র ঐক্যের স্থায়ী ভিত্তি।”
পুনর্জাগরণের ডাক বনাম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
বর্তমানে প্লাটফর্মটি আবার সক্রিয় করার প্রস্তাব সামনে এসেছে। তবে রাশেদ খান এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন,
“যারা গত এক বছরে মূল্যায়নের বাইরে ছিলেন, তাদের আবার ফিরিয়ে আনা হলে সেটি হবে নিজেদের আত্মমর্যাদা বিসর্জনের সমান। গণআন্দোলনের স্টেকহোল্ডারদের এভাবে প্রতারিত করা উচিৎ নয়।”
রাজনৈতিক প্রভাব ও জাতীয় অর্থ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্লাটফর্মটির বিতর্কিত অবস্থান থাকলে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মতো গণআন্দোলনও জনমনে ম্লান হয়ে যাবে।
এক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এই বিতর্ক মূলত অভ্যুত্থান ও ছাত্র রাজনীতির প্রভাব ধ্বংস করার পরিকল্পনা। যদি শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন বিতর্কে জড়ায়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের অবজ্ঞাও প্রশমিত হবে।”
ইতিহাসে সংরক্ষণের দাবি
রাশেদ খান প্রস্তাব দেন,
“এই প্লাটফর্মটি এখনই স্থায়ীভাবে স্থগিত ঘোষণা করে ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এটি গবেষণা করে শ্রদ্ধা করে, কিন্তু পুনরায় ব্যবহার না করে।”
উপসংহার: আত্মসমালোচনা ও নেতৃত্ব পরিবর্তন অপরিহার্য
তিনি বারবার বলেন,
“পুনর্জাগরণ নয়, পরিশুদ্ধি দরকার। নেতৃত্ব পদত্যাগ করবে, কাঠামো পুনর্গঠিত হবে এবং আন্দোলনের মূল অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়ন ছাড়া প্লাটফর্মের পুনর্জন্ম মানে হবে নতুন বেইমানি।”
তথ্যসূত্র: আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রনেতা, জেলা প্রতিনিধি, রাশেদ খানের ফেসবুক পোস্ট ও সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণ
সংগ্রহ ও সংকলন: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক