ফলো দ্য মানি’: ঢাকা–৮ রাজনীতিতে সহানুভূতি নাকি ভোটের অঙ্ক?
ঢাকা | বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনীতি বুঝতে হলে অর্থনীতির একটি পুরোনো কিন্তু কার্যকর সূত্র অনুসরণ করতে হয়— ‘Follow the Money’। অর্থাৎ, কোনো একটি ঘটনার পেছনে কার লাভ হচ্ছে, সেটি অনুসরণ করলেই প্রকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনেক সময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঢাকা–৮ আসনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সূত্রটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঢাকা–৮ আসনে একই সময়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন সাদিক কায়েম ও ওসমান হাদী। হাদীর ওপর হামলার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে প্রতিক্রিয়াগুলো দেখা গেছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করলে প্রশ্ন উঠছে—এগুলো কি প্রকৃত সহানুভূতি, নাকি সুপরিকল্পিত ভোটের হিসাব?
সহানুভূতির রাজনীতি নাকি ইমেজ ব্যবস্থাপনা
বিশ্লেষকদের মতে, সাদিক কায়েমের আচরণ ও তৎপরতা ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করলে সহমর্মিতার চেয়ে রাজনৈতিক লাভ–ক্ষতির হিসাবই বেশি দৃশ্যমান। একাধিক জামায়াতপন্থী নেতাকে হাদীর পাশে গিয়ে ছবি তুলতে দেখা গেলেও, এই উপস্থিতিকে অনেকেই ‘সংহতির রাজনীতি’ নয় বরং ‘ইমেজ পলিশিং’ হিসেবে দেখছেন।
ইতিহাস ও ডিসেম্বারের ছায়া
সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সাদিক কায়েমের সমর্থক রাজনৈতিক বলয়ের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ঐতিহাসিকভাবে উত্থাপিত হয়ে আসছে। তাদের দাবি—পরাজয় নিশ্চিত মনে হলেই এই শক্তিগুলো চরমপন্থী কৌশলের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটিকে তারা “পুরোনো কৌশল” বলেও অভিহিত করছেন।
দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ
আরও অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক আচরণে দ্বৈত মানদণ্ডের। একদিকে জুমার দিনে বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসকে অপমান করার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ, অন্যদিকে জুবাইদা রহমানের উপস্থিতিতে কোনো বিরূপ মন্তব্য না হওয়া—এই বৈপরীত্য প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রশ্ন
সমালোচনায় আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর সাদিক কায়েম সাক্ষ্য দিতে গেলেও, তার আগের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল ছাত্রলীগের প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে যুক্ত—যাদের ‘হেলমেট–হাতুড়ি বাহিনী’ বলে আখ্যায়িত করা হতো। এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনকে অনেকেই সুবিধাবাদী রাজনীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
‘বিক্রির রাজনীতি’র অভিযোগ
লেখক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক জান্নাতুন নাইম প্রীতি মনে করেন, এই রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রয়োজনে ধর্ম, জুলাই আন্দোলন এবং এমনকি আন্দোলনে নিহতদের স্মৃতিও রাজনৈতিক পণ্য হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। তার ভাষায়, “জুলাই হাইজ্যাকের লক্ষ্যেই জুলাইয়ের ছাত্রনেতাদের ওপর আঘাত আসতে পারে।”
ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত সতর্কবার্তা
লেখক তার মন্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই বিশ্লেষণটি তারিখ ও নামসহ সংরক্ষণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই বক্তব্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
—
© জান্নাতুন নাইম প্রীতি
(মতামত লেখকের নিজস্ব)