নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
২০১৬ থেকে ২০২২ সাল—টানা ছয় বছর ধরে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের ওপর চলে আসা অমানবিক নির্যাতন ও ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা সামনে এসেছে। ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং তার পুরো পরিবারকে রাজনৈতিক পথ থেকে সরিয়ে দিতে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র জগতের এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং বর্তমানে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কিং ফাহাদ এমবিএফ-এর অভিযোগের ভিত্তিতে পাওয়া গেছে ভয়ংকর সব তথ্য।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৬ সালে ফাহাদের দাদিকে ডিমের মাধ্যমে বিষ প্রয়োগ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগের আঙুল তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও তাদের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের দিকে। এর কয়েক বছর পর ২০২১ সালে তার দাদাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। কোনো সাধারণ অস্ত্র নয়, বরং ‘মিলিটারি কেমিক্যাল’ ব্যবহার করে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তার ফুসফুস নষ্ট করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে নৃশংস ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন মাস আগে। ফরিদপুর-১ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত ফাহাদের পিতাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আসে আওয়ামী লীগের উচ্চমহল থেকে। তাকে কেবল শারীরিক নির্যাতনই করা হয়নি, শরীরের ডান পাশে গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
পরিবারটির ওপর সর্বশেষ বড় আঘাত আসে ২০২২ সালে। গুলশানের ১১৩ নম্বর রোডের ‘মার্শাল গার্ড’ নামক ভবনে ফাহাদ, তার মা এবং তার শিশু বোনকে হাজার হাজার মানুষের সামনে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে মাই টিভির মালিক তৌহিদ আফ্রিদির বাবা এবং এফডিসির কয়েকজন নায়ক-নায়িকা এই হত্যা প্রচেষ্টায় ইন্ধন জোগান। ড্রাইভারদের গ্যারেজে আটকে রেখে ৫ ঘণ্টা ধরে চলে এই নির্যাতন।
ফাহাদ দাবি করেছেন, এই সকল অপরাধের অকাট্য প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপন তথ্য তাদের আন্তর্জাতিক সংস্থার টিমের কাছে সংরক্ষিত আছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যারা পার পাওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের প্রত্যেকের আমলনামা এখন উন্মোচিত হওয়ার অপেক্ষায়। বিশেষ করে দেশের আলোচিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কর্মকাণ্ডও তাদের নজরদারিতে রয়েছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী জুলুমের শিকার পরিবারটি এখন আন্তর্জাতিক মহলে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে। ফাহাদ বলেন, “রাজ পরিবারে হাত দিয়েছিস, এবার প্রতিটি হাত আমার কাছে জবাব দেবে। শেখ হাসিনার ফাঁসি নিশ্চিত, আর বাকি যারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, তাদের জন্য সময় ঘনিয়ে আসছে।”
এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্ষমতার প্রভাবে একটি পরিবারকে এভাবে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়ার বিচার কি হবে?