নিউজ ধামাচাপা’ সিন্ডিকেট: নেপথ্যে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের শীর্ষ নেতৃত্ব
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে যেখানে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ ভিড় করেন, সেখানে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ‘নিউজ ম্যানেজমেন্ট’ সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতা ও সন্ত্রাসীদের জামিনের খবর আড়াল করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিনিময়ে আইনজীবী ও বিচারপতিদের একটি অংশ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল অংকের চাঁদা।
জামিন বাণিজ্য ও খবরের সেন্সরশিপ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বড় বড় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের জামিন হলেও রহস্যজনক কারণে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সাংবাদিকরা সেই সংবাদগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগের আঙুল ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের দিকে। তিনি বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের কাজিন পরিচয় দিয়ে আদালত পাড়ায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অভিযোগ আছে, তার নির্দেশনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক সংবাদ মূলধারার মিডিয়ায় আসছে না।
চাদাবাজির টাকায় ‘পিকনিক বিলাস’
আদালত পাড়ার সাধারণ আইনজীবীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিকদের একাংশ এখন নিয়মিত চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। বিশেষ করে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত আইনজীবী ও বিচারকদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে জমকালো পিকনিক ও প্রমোদভ্রমণের আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া একটি পিকনিকের খরচ নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ আছে, এসব চাঁদাবাজির বিনিময়ে বিচারকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর চেপে যান এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা।
নেতৃত্বে বিতর্কিতরা: নেপথ্য কাহিনী
ফোরামের বর্তমান সভাপতি এনটিভির হাসান জাবেদের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ। ডিআরইউতে বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রতীক স্থাপনের কারিগর হিসেবে পরিচিত এই সাংবাদিক তৎকালীন আইনমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে তার ভাইকে পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) বানিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, নিউ এজের মনিরুজ্জামান মিশন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে পারিবারিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে তদবির বাণিজ্যে জড়িত বলে ওপেন সিক্রেট।
জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের সাথে বেইমানি
জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশেও এই পুরনো সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে আদালত পাড়ায়। সাধারণ আইনজীবীরা বলছেন, “যারা জুলাই আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের জামিন পাইয়ে দেওয়া এবং সেই খবর ধামাচাপা দেওয়া মূলত বিপ্লবের চেতনার সাথে বেইমানি।”
তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রতিনিধিদের এই অপেশাদার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। যদি এই চাঁদাবাজি এবং তদবির বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরা না যায়, তবে বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা চরম হুমকির মুখে পড়বে। সাংবাদিকতার নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে যারা ব্যক্তিগত মুনাফায় মত্ত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।