তারেক রহমানের সততা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা নিয়ে ডাঃ তৌফিক জোয়ার্দারের স্মৃতিচারণ
ঢাকা, ১১ জানুয়ারি ২০২৬: বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং সত্যের প্রতি তাঁর অবিচল নিষ্ঠার এক দুর্লভ স্মৃতিচারণ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ তৌফিক জোয়ার্দার। ২০১৯ সালের একটি ঘটনার স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে ক্ষমতা বা প্রচারণার চেয়ে নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন এই জননেতা।
৫ এপ্রিল ২০১৯: কিংস্টন লজের সেই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ
স্মৃতিচারণে ডাঃ তৌফিক জোয়ার্দার জানান, ৫ এপ্রিল ২০১৯ সালে লন্ডনের কিংস্টন লজ হোটেলে তারেক রহমানের সাথে তাঁর এক দীর্ঘ বৈঠক হয়। তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী কর্মকৌশল (Strategic Support) নিয়ে আলোচনার জন্য অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাফকাত রাব্বী অনিকের সাথে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার সেই বৈঠকে তারেক রহমান অত্যন্ত ধৈর্য ও গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে তাদের প্রস্তাবনাগুলো শোনেন।
মিথ্যা ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান
প্রতিবেদনের মূল আকর্ষণ ছিল ‘ন্যারেটিভ’ নির্মাণ বা প্রচার কৌশল নিয়ে তারেক রহমানের প্রতিক্রিয়া। ডাঃ তৌফিক জোয়ার্দার প্রস্তাব করেছিলেন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের পাল্টা প্রচারণা চালানোর জন্য। কিন্তু তারেক রহমান সরাসরি প্রশ্ন করেন—আওয়ামী লীগ যা করছে তা কি সত্য বা তারা কি সত্যিই জনপ্রিয়?
উত্তরে যখন বলা হয় যে তারা জনপ্রিয় নয়, তখন তারেক রহমান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন:
“মানুষকে মিথ্যা ন্যারেটিভের ফাঁদে ফেলে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। মানুষ যখন জাগবে, আল্লাহ যখন চাইবেন, তখনই আমরা ক্ষমতায় যাব ইনশাল্লাহ।”
পরিবর্তনের কারিগর ও দীর্ঘমেয়াদী স্টেটম্যানশিপ
ডাঃ জোয়ার্দার স্বীকার করেন যে, সে সময় রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ হওয়ায় তারেক রহমানের এই ‘আদর্শবাদী’ অবস্থানে তিনি কিছুটা উষ্মা বোধ করেছিলেন। কিন্তু আজ দীর্ঘ সময় পর তিনি বুঝতে পারছেন যে, তারেক রহমানের সেই অবস্থান ছিল এক জন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কের (Statesman) মতো।
প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণসমূহ:
গণতান্ত্রিক সহনশীলতা: তারেক রহমান সমালোচনামূলক প্রশ্ন এবং তর্কে বিরক্ত না হয়ে বরং অত্যন্ত প্রশ্রয়ের সাথে আলোচনা চালিয়েছেন।
সত্যের জয়গান: সম্প্রতি ফাতিমা তুজ জোহরার একটি ভাইরাল পোস্টের সূত্র ধরে ডাঃ তৌফিক নিশ্চিত করেন যে, তারেক রহমান সবসময়ই বিশ্বাস করতেন মিথ্যা বলে মানুষকে বেশিদিন ঠকানো যায় না।
অবিচল নেতৃত্ব: গত ৫ বছরেও তারেক রহমান তাঁর এই নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হননি, যা প্রমাণ করে তাঁর রাজনীতি কোনো সাময়িক লোকদেখানো কৌশল নয়।
উপসংহার
ডাঃ তৌফিক জোয়ার্দারের এই স্মৃতিচারণ এটিই প্রমাণ করে যে, গত দেড় দশক ধরে চলা ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে তারেক রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং সত্য ও ন্যায়ের এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর এই দূরদর্শিতা আজ দেশের সাধারণ মানুষের কাছেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।