ছদ্মবেশী পরিবর্তন নাকি পুরনো শত্রুর পুনর্জাগরণ?—NCP-কে ঘিরে উঠছে বিতর্কের ঝড়
১৮ জুলাই, ২০২৫ | ঢাকা
ডেস্ক রিপোর্ট : দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
দেশে যখন দীর্ঘ আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের মাধ্যমে জনগণ ক্ষমতাধর স্বৈরশাসকের পতন ঘটালো, তখন নতুন নেতৃত্ব ও কাঠামোর জন্য জাতি তাকিয়ে ছিল একজন সাহসী, নৈতিক, এবং আদর্শনিষ্ঠ বিকল্পের দিকে। কিন্তু সেই রাজনৈতিক শূন্যতায় হঠাৎ আবির্ভূত হওয়া একটি প্ল্যাটফর্ম—NCP (জাতীয় নাগরিক প্ল্যাটফর্ম)—এখন নিজেই প্রশ্নের মুখে।
একদা আওয়ামী বিরোধী দাবি করা এই প্ল্যাটফর্মটির বেশ কিছু আচরণ ও বক্তব্য সামনে আসার পর দেশের সচেতন মহল বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।

আওয়ামী লীগ-বান্ধব “ছদ্ম স্বাধীনতা”
৫ আগস্টের ‘প্রতিরক্ষা-পরিচালিত’ নাটকীয় পলায়নের পর থেকেই NCP-এর কয়েকজন মুখপাত্রের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—তারা মূলত আওয়ামী লীগের একটি ‘নতুন সংস্করণ’ বা পুনর্বাসনের স্পেস তৈরি করতে আগ্রহী।
হান্নান মাসুদের বক্তব্য—”নির্বাচন পিছাতে হবে, দেশের পরিস্থিতি ভালো না”—অথচ এই কথাগুলো শুনতে শুনতে জনগণ ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো জাল ভোটের উৎসব দেখেছে।
বলা বাহুল্য, এর মাধ্যমে NCP নিজেরাই প্রক্সি মডেলকে বৈধতা দেওয়ার ফাঁদে পা দিচ্ছে, যা প্রকৃত গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
—
“জনগণ থাকলে লন্ডন লাগে না” — আর বাস্তবতা?
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছিলেন, “আমরা লন্ডনে পালাই না, জনগণ আমাদের সাথে”। কিন্তু সেই হাসনাতকেই দেখা গেছে সাঁজোয়া সেনা গাড়িতে উঠে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে—আর এই ভিডিও আজ ভাইরাল।
এই ঘটনা শুধু একজন নেতার কথার দ্বিচারিতা প্রকাশ করে না, বরং গোটা প্ল্যাটফর্মের দুর্বল সাহসিকতা এবং মুখোশ খুলে দেয়।
—
গোপালগঞ্জকে “গোপালি” বলা—বর্ণবাদ না শ্রেণিবৈষম্য?
নাহিদ ইসলাম মঞ্চে দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতিকে বিকৃত করে বলেছিলেন, “আমরা নাম পাল্টাতে আসি নাই”—অর্থাৎ ‘গোপালগঞ্জ’ নিয়ে কটাক্ষ করে।
প্রশ্ন হলো, গোপালগঞ্জ কি কোনো অভিশপ্ত অঞ্চল? শহীদ জিয়াউর রহমান এই এলাকাতেই গণশিক্ষা আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন।
তাহলে আজ যারা “গোপালি” বলে বিদ্রূপ করে, তারা আসলে কাদের প্রতিনিধি?
—
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা—কিন্তু তাদের গাড়িতেই পালানো?
৫ আগস্টের পর থেকে NCP সংশ্লিষ্ট অনেকেই সেনাবাহিনীকে “কচুক্ষেত”, “ব্যারাকে ফিরে যাও”, এমনকি “বাহিনীর আধিপত্য” বলে সমালোচনা করেছিল।
কিন্তু আজ যখন আন্দোলনে উত্তেজনা ছড়ায়, তখন সেই নেতারাই সেনা পরিবাহনে নিরাপত্তা নেয়। এই নৈতিক দ্বিচারিতা জনগণের চোখে পড়েছে এবং কেউ ভুলে যাবে না—কে কখন কী বলেছিল আর কী করেছিল।
—
জাতীয় ঐক্য? না কি পদ-ভাগাভাগির আড়ালে রাজনীতির ব্যবসা?
যেখানে জনগণ স্বপ্ন দেখছে একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নৈতিক রাজনীতির, সেখানে এই প্ল্যাটফর্মের নেতারা ‘জাতীয় ঐক্য’ শব্দটি মুখে না বললেও কূটনীতিক মহলে পদ ভাগাভাগির তদবিরে ব্যস্ত।
আন্দোলনের ত্যাগের সুফল যদি পেছনের দরজা দিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়, তবে সেটিই হবে সত্যিকারের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা।
—
রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও বার্তা
“আওয়ামী লীগ সরে গেলেও তার ছায়া যদি ক্ষমতায় ফিরতে চায়, আমরা তার মূলোৎপাটন করবো। NCP যদি সেই ছায়া হয়ে উঠে—তবে ইতিহাস তাদেরও ক্ষমা করবে না।”
এই প্ল্যাটফর্ম গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং ভদ্রবেশী সুবিধাবাদীদের জোট—যাদের দরজা সব দলের জন্য খোলা, শুধু আদর্শ ছাড়া।”
জনমত গঠনের পরামর্শ
১. NCP-এর নেতাদের আগের ও বর্তমান বক্তব্য, ভিডিও, এবং ফ্যাক্টচেক করা তথ্য দিয়ে সংবাদভিত্তিক ক্যাম্পেইন চালানো।
২. “শত্রুর ছায়া সহ্য করবো না” — এই বার্তা দিয়ে সামাজিক আন্দোলনের নতুন ঢেউ তোলা।
৩. জনগণকে বোঝানো, রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়—নীতিগত চেতনার মুক্তি চাই।
—
NCP এখনই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করলে, তারা শুধু বিতর্কিত নয়—বরং জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার অপরাধে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াবে।
তথ্য সূত্র ইশতিয়াক আহমেদ শাওন।