“গণবিক্ষোভে গুলি চালানোর পরও ‘শৃঙ্খলার প্রশংসা’ — আওয়ামী লীগের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনার ঝড়”
বিশেষ প্রতিবেদন | দৈনিক প্রথম বাংলাদেশ
গোপালগঞ্জের রক্তাক্ত ঘটনার পর যখন সারাদেশে নিন্দা-প্রতিবাদের ঝড়, তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ওই বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা’ এবং ‘উস্কানিমূলক দল ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’ অব্যাহত রাখার হুমকি উচ্চারণ করা হয়েছে।
বিবৃতির এই ভাষ্যকে অনেকেই বলছেন—“এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম”। কারণ যেখানে মাঠে জনগণের বিরুদ্ধে সামরিক কায়দায় ফর্মেশন সাজিয়ে গুলি চালানো হয়েছে, সেখানে সেই ঘটনাকে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার নাম দিয়ে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা—এটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ওপর এক প্রলেপ মাত্র।
“শত্রু বানাও, আক্রমণ করো, তারপর বলো শান্তি ফিরেছে”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিবৃতি নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ন্যারেটিভের অংশ।
প্রথমে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ ট্যাগ দাও।
তারপর আক্রমণ চালাও।
এরপর ‘শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা’র গল্প বলো।
এটি ঠিক textbook authoritarian playbook — যেখানে শাসকগোষ্ঠী জনগণের প্রতিবাদকে সন্ত্রাস বলে রঙ করে দেয়, আর প্রতিরোধ দমনকে রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ বলে চালিয়ে দেয়।
সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সামাজিক মাধ্যমের সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত তীব্র। কেউ কেউ লিখেছেন,
> “যে ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্রের প্রতীক বলা হয়, সেখানে গণবিক্ষোভে গুলি চালিয়ে মানুষের মৃত্যুকে দায়িত্ব পালন বললে, সেটা আর দলীয় স্টেটমেন্ট নয় — এটা রাষ্ট্রের পক্ষে এক ঘৃণ্য প্রোপাগান্ডা।”
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—
> “যে শাসক গুলিকে ন্যায়সঙ্গত বলে, সে আর জনগণের সেবক নয়—সে রক্তচোষা ক্ষমতার দানব।”
জনবিচ্ছিন্ন এক বিবৃতি
এই বিবৃতিকে অনেকেই বলছেন “জনবিচ্ছিন্ন”, “মানবিকতা বিবর্জিত” ও “নির্লজ্জ আত্মবিভ্রম”।
বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাও এই ধরনের বিবৃতিকে রাজনৈতিক ভুল হিসেবে দেখছেন।
> “এই সময় গুলি চালানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা না দিয়ে উল্টো বাহবা দিলে, তা জনআন্দোলনকে আরও ঘনীভূত করবে”—বলছেন একজন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও নেতিবাচক
দেশীয় প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও এই ধরনের সরকারি বক্তব্যকে “দমননীতি বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা” বলে চিহ্নিত করছেন।
সংবাদ বিশ্লেষকরা বলছেন,
> “এমন সময়, যখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, তখন এ ধরনের বিবৃতি তাদের অবস্থান আরও দুর্বল করবে।”
উপসংহার: বিবৃতি না, বরং পতনের ঘোষণা?
আওয়ামী লীগের এই অফিসিয়াল বিবৃতি অনেকের কাছেই এক রাজনৈতিক স্ববিরোধিতার দলিল। যখন জনগণ বলে, “আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা প্রতিবাদ জানাতে এসেছি,” তখন রাষ্ট্র বলে, “তোমরাই যুদ্ধ শুরু করেছো।”
এই ব্যবধান থেকেই জন্ম নেয় পতনের ছায়া।
এবং ইতিহাস বলে —
যে শাসক নিজের জনগণকে ‘শত্রু’ মনে করে, সে নিজেই তার সবচেয়ে বড় হুমকি তৈরি করে।