গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রসঙ্গ
শামসুল আলম | রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনীতির এক উত্তাল সন্ধিক্ষণে আজ ২০ নভেম্বর। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৪তম জন্মবার্ষিকী। একদিকে কারাবন্দী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, অন্যদিকে নির্বাসিত জীবনে থেকে দল পরিচালনার গুরুভার—সব মিলিয়ে তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ও কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাম।
তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতি: এক সাংগঠনিক জাদুকর
২০০০ থেকে ২০০৭ সাল; বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সময়কাল। বনানীর একটি ভাড়া করা ভবন, যা ‘হাওয়া ভবন’ নামে পরিচিত, সেখানে বসেই তারেক রহমান গড়ে তুলেছিলেন বিএনপির এক শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো। কেবল নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া নয়, বরং ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন ও তৃণমূল পুনর্গঠনের মাধ্যমে তিনি জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যা বিরোধী শিবিরের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সমসাময়িক ইতিহাস সাক্ষী দেয়, অল্প সময়ে এক হাতে দলকে চাঙ্গা করার এমন নজির বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল।
ষড়যন্ত্র ও ১/১১-এর কালো অধ্যায়
তারেক রহমানের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা তাঁর ইমেজ ধ্বংসের মিশনে নামে। ‘সরকারের ভেতরে সরকার’ কিংবা ‘দুর্নীতির বরপুত্র’—এমন সব তকমা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চালানো হয় ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারণা। ১/১১-এর মঈন-ফখরুদ্দিন সরকার কেবল তাঁকে গ্রেপ্তারই করেনি, বরং অকথ্য শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁর মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার জাল বুনে তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা আজও অব্যাহত। এমনকি ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলায় তাঁকে জড়ানোর চেষ্টাও মুফতি হান্নানের এফিডেভিটের মাধ্যমে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
গণতন্ত্রের মুক্তি ও আসন্ন গণবিপ্লব
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শামসুল আলম তাঁর পর্যবেক্ষণে লিখেছেন, ২০১৯ সালের বাংলাদেশের মানুষ এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভোটাধিকার হরণ এবং বিরোধী মত দমনে ‘জাহেলিয়াত’ চরম আকার ধারণ করেছে। লেখক মনে করেন:
গণতান্ত্রিক পুনঃপ্রতিষ্ঠা: তারেক রহমানের নেতৃত্বেই কেবল বাংলাদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসা সম্ভব।
বিকল্পহীন নেতৃত্ব: বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষের ভরসার জায়গা এখন তারেক রহমান।
গণবিস্ফোরণ: বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনমনে যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে, তা যেকোনো সময় গণবিপ্লবে রূপ নিতে পারে এবং সেই বিপ্লবের কাণ্ডারি হবেন তারেক রহমান।
তারেক রহমানকে নিয়ে যত নেতিবাচক প্রচারণাই চালানো হোক না কেন, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে তিনি একজন ‘পপুলার ন্যাশনালিস্ট লিডার’। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো স্বাধীন বিচার বিভাগে টেকসই হবে না বলে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের বিশ্বাস। পরাধীনতার শিকল ভেঙে বাংলাদেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে হলে তারেক রহমানের নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। ভুল-ভ্রান্তি শুধরে নতুন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এগিয়ে যাওয়াই এখন সময়ের দাবি।
“তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণবিপ্লবের মধ্য দিয়েই পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেতে পারে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ।” —