• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা শার্শার যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

খুনি হাসিনার রক্তপিপাসু শাসন”: কমপ্লিট শাটডাউনের দ্বিতীয় দিনে নিহত ৬৭, সারাদেশে কারফিউ, রাষ্ট্রীয় যুদ্ধের চিত্র

Reporter Name / ২৮৯ Time View
Update : রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫

 


“খুনি হাসিনার রক্তপিপাসু শাসন”: কমপ্লিট শাটডাউনের দ্বিতীয় দিনে নিহত ৬৭, সারাদেশে কারফিউ, রাষ্ট্রীয় যুদ্ধের চিত্র

ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৫ | রিপোর্ট ডেস্ক

বাংলাদেশে ২০২৫ সালের জুলাই মাস ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় হয়ে উঠছে। শেখ হাসিনার শাসনের শেষ অধ্যায়ে এসে গণবিরোধী আগ্রাসন যেন উন্মত্ততার চূড়ায় পৌঁছেছে। “কমপ্লিট শাটডাউন”-এর দ্বিতীয় দিনে সারা দেশে পুলিশের গুলিতে ৬৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত, শত শত আহত এবং সহস্রাধিক মানুষ আটক হয়েছেন।

রাষ্ট্র যেন নিজেই নাগরিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। রাস্তায় রক্ত, ঘরে আতঙ্ক—এই হলো হাসিনা-শাসিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।


মঞ্চ সাজানো ছিল গুলির জন্য, মুখোশ খুলে ফেলেছে রাষ্ট্র

১৯ জুলাই সকাল থেকেই সরকারি বাহিনী ও আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের সমন্বয়ে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।

  • চট্টগ্রামে ছাত্রদলের এক নেতাকে সরাসরি মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
  • গাবতলীতে এক গার্মেন্টস কর্মীকে লক্ষ করে পুলিশের গুলিবর্ষণ।
  • কুমিল্লায় চার বিক্ষোভকারীকে কথিত “ক্রসফায়ারে” হত্যা করে তাদের লাশ পড়ে থাকে রাস্তার পাশে।
  • রাজশাহী, নরসিংদী, নোয়াখালী, খুলনা ও বরিশালে সংঘবদ্ধভাবে হানা দিয়ে চালানো হয় লাঠিচার্জ, গ্রেফতার ও গুলি।

সামাজিক মাধ্যমে এসব হত্যাকাণ্ডের ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়লেও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় চলছে কবর-নীরবতা।


‘কারফিউ’ এখন নিপীড়নের আরেক নাম

দেশের ১৫টি জেলায় অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি, ইন্টারনেট ও মোবাইল ডেটা সম্পূর্ণ বন্ধ, সাংবাদিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেই গ্রেফতার—এসবই এখন বাস্তবতা।

রাষ্ট্রীয় অপারেশন এতটাই নিয়ন্ত্রিত ও নিষ্ঠুর যে মানুষের মুখ বন্ধ রাখতেই যেন এই কারফিউ।


তারেক রহমান: “এটি গণতন্ত্র বনাম ফ্যাসিবাদের যুদ্ধ”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় এক ফেসবুক লাইভে বলেন—

“এই আন্দোলন এখন আর সাধারণ রাজনৈতিক সংগ্রাম নয়। এটি একটি রণক্ষেত্র—একদিকে জনগণের অধিকার, অন্যদিকে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ। জনগণের বিজয় হবেই।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার পলায়নের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এই রক্তের হিসাব তাকে দিতে হবেই।”


আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বনাম শেখ হাসিনার নির্বিকারতা

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

  • Reuters, Al Jazeera, BBC ও DW রিপোর্ট করেছে ‘Bangladesh: State-led Massacre’ শিরোনামে।
  • Human Rights Watch ও Amnesty International একে ‘human rights catastrophe’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

অথচ শেখ হাসিনা সরকার এসব প্রতিবাদকে “অভ্যন্তরীণ বিষয়” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

এই নির্বিকার মনোভাব প্রমাণ করে—এই শাসকগোষ্ঠীর কাছে মানুষের জীবন কিংবা গণতন্ত্রের মূল্য নেই।


আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি

১৯ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি তুলেছেন মানবাধিকার আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, এই সহিংসতা জবাবদিহিহীন রাখতে না দিয়ে আগামী সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা।


উপসংহার: এইবার হিসাব চাই

“১৯ জুলাই” এখন কেবল একটি দিন নয়—এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি প্রতিজ্ঞা।
যারা শহীদ হলেন, তারা দেশের জন্য নিজেদের জীবন দিলেন; সেই ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না।
শেখ হাসিনার দানবীয় শাসনের অবসান চাই—আইন ও ন্যায়ের কাঠগড়ায় তাকে দাঁড় করাতে হবে।

বাংলাদেশ আজ আর ভয় পায় না।
বাংলাদেশ জেগেছে।
বাংলাদেশ বদলাবে।
ইতিহাস এবার নতুন করে লেখা হবে—গণতন্ত্রের রক্ত-স্বাক্ষরে।


তথ্যসূত্র: মাঠ পর্যায়ের ভিডিও ফুটেজ, প্রতিবাদকারীদের বিবৃতি, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনসমূহ।


 


More News Of This Category
bdit.com.bd