ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৫ | রিপোর্ট ডেস্ক
বাংলাদেশে ২০২৫ সালের জুলাই মাস ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায় হয়ে উঠছে। শেখ হাসিনার শাসনের শেষ অধ্যায়ে এসে গণবিরোধী আগ্রাসন যেন উন্মত্ততার চূড়ায় পৌঁছেছে। “কমপ্লিট শাটডাউন”-এর দ্বিতীয় দিনে সারা দেশে পুলিশের গুলিতে ৬৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত, শত শত আহত এবং সহস্রাধিক মানুষ আটক হয়েছেন।
রাষ্ট্র যেন নিজেই নাগরিকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। রাস্তায় রক্ত, ঘরে আতঙ্ক—এই হলো হাসিনা-শাসিত বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
১৯ জুলাই সকাল থেকেই সরকারি বাহিনী ও আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের সমন্বয়ে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।
সামাজিক মাধ্যমে এসব হত্যাকাণ্ডের ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়লেও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় চলছে কবর-নীরবতা।
দেশের ১৫টি জেলায় অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি, ইন্টারনেট ও মোবাইল ডেটা সম্পূর্ণ বন্ধ, সাংবাদিকদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, এমনকি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেই গ্রেফতার—এসবই এখন বাস্তবতা।
রাষ্ট্রীয় অপারেশন এতটাই নিয়ন্ত্রিত ও নিষ্ঠুর যে মানুষের মুখ বন্ধ রাখতেই যেন এই কারফিউ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় এক ফেসবুক লাইভে বলেন—
“এই আন্দোলন এখন আর সাধারণ রাজনৈতিক সংগ্রাম নয়। এটি একটি রণক্ষেত্র—একদিকে জনগণের অধিকার, অন্যদিকে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ। জনগণের বিজয় হবেই।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার পলায়নের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এই রক্তের হিসাব তাকে দিতে হবেই।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
অথচ শেখ হাসিনা সরকার এসব প্রতিবাদকে “অভ্যন্তরীণ বিষয়” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এই নির্বিকার মনোভাব প্রমাণ করে—এই শাসকগোষ্ঠীর কাছে মানুষের জীবন কিংবা গণতন্ত্রের মূল্য নেই।
১৯ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি তুলেছেন মানবাধিকার আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, এই সহিংসতা জবাবদিহিহীন রাখতে না দিয়ে আগামী সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করা।
“১৯ জুলাই” এখন কেবল একটি দিন নয়—এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি প্রতিজ্ঞা।
যারা শহীদ হলেন, তারা দেশের জন্য নিজেদের জীবন দিলেন; সেই ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না।
শেখ হাসিনার দানবীয় শাসনের অবসান চাই—আইন ও ন্যায়ের কাঠগড়ায় তাকে দাঁড় করাতে হবে।
বাংলাদেশ আজ আর ভয় পায় না।
বাংলাদেশ জেগেছে।
বাংলাদেশ বদলাবে।
ইতিহাস এবার নতুন করে লেখা হবে—গণতন্ত্রের রক্ত-স্বাক্ষরে।
তথ্যসূত্র: মাঠ পর্যায়ের ভিডিও ফুটেজ, প্রতিবাদকারীদের বিবৃতি, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনসমূহ।