কালিগঞ্জে ৫ আগস্ট পরবর্তী চাঁদাবাজির মহোৎসব: জাসদ নেতা মুরশীদ গাজীর দৌরাত্ম্য দমনে ‘ক্লিন হার্ট’ অভিযানের দাবি
বিপরীত চিত্র: মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কুশুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির ডাবলু
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন চাঁদাবাজি ও নির্যাতন। ৫ আগস্ট রাত থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অরাজকতা ও ত্রাসের রাজত্ব বন্ধে অবিলম্বে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কঠোর যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযুক্ত মুরশিদ গাজীর দৌরাত্ম্য ও চাঁদাবাজি
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী এই চাঁদাবাজি ও ত্রাস সৃষ্টির মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন কালিগঞ্জ উপজেলা জাসদের সভাপতি মুরশিদ গাজী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গত ৫ আগস্টের পর থেকে নিজেকে বড় কোনো নেতার ঘনিষ্ঠ এবং ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীর নাম ভাঙিয়ে সাধারণ নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জাসদ নেতা মুর্শিদ গাজী রাজনৈতিক ডিগবাজি দিয়ে প্রভাবশালী দলের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও সশরীরে নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ৫ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত মুরশিদ গাজী ও তার অনুসারীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
বিপরীত চিত্র: মানবিক নেতা হুমায়ুন কবির ডাবলুর দৃষ্টান্ত
যখন মুরশিদ গাজীর মতো সুযোগসন্ধানীরা সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে খেতে ব্যস্ত, ঠিক তখন এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে কুশুলিয়া ইউনিয়নে। কুশুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির ডাবলু-র ত্যাগী ও সৎ নেতৃত্বের প্রশংসা এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। ৫ আগস্ট পরবর্তী অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা রুখতে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘ ১৪ মাস ইউনিয়ন সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন, ৫ আগস্টের কঠিন সময়েও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কোনো প্রকার ক্ষমতার দাপট না দেখিয়ে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের ধন-সম্পদ ও জীবন রক্ষা করেছেন, তাকে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের দাবি, মুরশিদ গাজীর মত সুবিধাবাদীদের কঠোর হস্তে দমন করে হুমায়ুন কবির ডাবলুর মতো স্বচ্ছ ইমেজের নেতাদের মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
এলাকাবাসীর মতে, মুরশিদ গাজীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে কালিগঞ্জে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা কোনো দল বুঝি না, আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে চাই। এই কয়েক দিনে মুরশিদ গাজী আমাদের যা আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমরা চাই প্রশাসন কঠোর হোক এবং এই চিহ্নিত চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনতে দ্রুত অভিযান শুরু করুক।”
সাঁড়াশি অভিযানের জোরালো দাবি
কালিগঞ্জের সচেতন মহলের দাবি, মুরশিদ গাজীর মতো ব্যক্তিরা রাজনৈতিক লেবাস গায়ে দিয়ে উপজেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বিনষ্ট করছে। এদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি সাঁড়াশি অভিযান (ক্লিন হার্ট স্টাইল) পরিচালনা করা জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা চিরতরে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।