কাওরান বাজারে ‘মাস্টার প্ল্যান’: নেপথ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্যাডার বাহিনী ও লোকমান সিন্ডিকেট
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬
রাজধানীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কাওরান বাজারে গত ৫ই আগস্টের পর শুরু হয়েছে এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। পতিত স্বৈরাচারী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রধান সহযোগী লোকমান ও তার ক্যাডার বাহিনী বিএনপিকে জনবিচ্ছিন্ন করতে এবং আগামী নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

টার্গেট যখন বিএনপির ত্যাগী নেতা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাওরান বাজার এলাকায় বিএনপির শক্ত অবস্থান নষ্ট করতে দলের দুজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে টার্গেট করা হয়েছে। তারা হলেন— স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির এবং যুবদল নেতা আব্দুর রহমান। দলের দুঃসময়ের এই দুই যোদ্ধার মধ্যে মুসাব্বিরকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, আব্দুর রহমানকে সামাজিকভাবে হেয় করতে তাকে ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল চালানো হচ্ছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘ডান হাত’ লোকমানের মিশন
কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেট ছিল এক সময় আসাদুজ্জামান খান কামালের অঘোষিত আস্তানা। তার প্রধান সহযোগী লোকমান এখান থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ করতেন। ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও লোকমান পালিয়ে গেলেও তাদের তৈরি করা ‘ডান হাত-বাম হাত’ খ্যাত ক্যাডাররা এখনো এলাকা ছাড়েনি। তারাই এখন কৌশলে বিএনপির লেবাস ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, যার দায় চাপানো হচ্ছে বিএনপির ওপর।

ভাড়াটে মিডিয়া ও প্রোপাগান্ডা
অভিযোগ উঠেছে, লোকমান সিন্ডিকেট বিপুল অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু টেলিভিশন চ্যানেলকে (বিশেষ করে আরটিভি-র নাম আলোচনায় আসছে) ব্যবহার করছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা নিউজ তৈরি করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যারা চাঁদাবাজি করছে তারা মূলত আওয়ামী লীগের চিহ্নিত ক্যাডার, কিন্তু ক্যামেরার সামনে তারা নিজেদের বিএনপি পরিচয় দিয়ে দলকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য: নির্বাচন বানচাল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাওরান বাজারের এই অস্থিরতা স্রেফ আধিপত্য বিস্তার নয়। এটি একটি বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ। আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা বাইরে থেকে অর্থের জোগান দিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, যাতে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন না হতে পারে।
সতর্কবার্তা ও তৃণমূলের দাবি
কাওরান বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি: ১. মুসাব্বির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার করতে হবে। ২. লোকমান সিন্ডিকেটের যে সব ক্যাডার এলাকায় এখনো সক্রিয়, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। ৩. মিডিয়া প্রোপাগান্ডা বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
“সজাগ থাকো বাংলাদেশ, ষড়যন্ত্র হয়নি শেষ” —এই স্লোগানকে সামনে রেখে ক্যাডার বাহিনীকে চিহ্নিত করে আইনের হাতে সোপর্দ করার জোর দাবি উঠেছে কাওরান বাজারের প্রতিটি প্রান্ত থেকে।