• সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা পলাশবাড়ীতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীর পেট মুচড়ে ও বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ শিক্ষক মিথুনের বিরুদ্ধে মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি মেয়রপ্রার্থী মফিজুর রহমানের মানবিক দৃষ্টান্ত ১৫০০ পরিবারের মুখে ঈদের হাসি ঈদের খাবারে অনিয়মের অভিযোগ: রাজশাহী কারাগারে নিম্নমানের পোলাও চাল সরবরাহ, ঠিকাদার–কর্তৃপক্ষ যোগসাজশের সন্দেহ আইনের রক্ষক না ভঙ্গক,পুলিশের কনস্টেবল রাজীব কুমার হৃদয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ,আরএমপি জুড়ে তোলপাড়, জনমনে উদ্বেগ,শাস্তির দাবি বাংলাদেশ পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরের সংবর্ধনা শার্শার যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম শহীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ আলী হায়দারের অন্ধকার সাম্রাজ্য — সন্ত্রাস, সম্পদ দখল ও অর্থপাচারের জাল

Reporter Name / ৬৪৩ Time View
Update : বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

 

ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ আলী হায়দারের অন্ধকার সাম্রাজ্য — সন্ত্রাস, সম্পদ দখল ও অর্থপাচারের জাল

তারিখ: ০৭ অক্টোবর ২০২৫, মঙ্গলবার | সময়: ১১:৫৮ রাত
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর
ওয়েবসাইট: www.bangladeshprothomsangbad.com

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ আলী হায়দারের অন্ধকার সাম্রাজ্য — সন্ত্রাস, সম্পদ দখল ও অর্থপাচারের জাল

রাজধানীর উত্তরাঞ্চল—উত্তরা, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর ও মহাখালী এলাকায় একসময় আওয়ামী রাজনীতির ছায়ায় গড়ে উঠেছিল এক শক্তিশালী সন্ত্রাসী চক্র। এর নেতৃত্বে ছিলেন এক ব্যক্তি—আলী হায়দার। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈম এবং বিমানবন্দর এলাকার আলোচিত জাপানি হান্নানের সঙ্গে তার গভীর যোগাযোগ ও পারস্পরিক স্বার্থের সম্পর্ক ছিল।

অধ্যায় ১: ক্ষমতার ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসের রাজত্ব
২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়কালে, আলী হায়দার তার প্রভাবশালী নেতাদের ছায়ায় এলাকায় চাঁদাবাজি, সম্পদ দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে প্রভাব বিস্তার করে।
৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান নাঈম ছিল তার মূল সহযোগী। নাঈমের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আলী হায়দার এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
একই সঙ্গে, বিমানবন্দর এলাকার সিন্ডিকেট নেতা জাপানি হান্নানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বও পাওয়া গেছে। তারা যৌথভাবে বিমানবন্দর পার্কিং, মালামাল হ্যান্ডলিং এবং চাঁদা সংগ্রহের বেশ কিছু অবৈধ চুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতো।

অধ্যায় ২: পারিবারিক সম্পদ আত্মসাৎ ও আর্থিক জাল বিস্তার
আলী হায়দারের বিরুদ্ধে তার নিজ পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি দখলের অভিযোগও গুরুতর। তদন্তে জানা যায়, সে তার বোন ও ভাগ্নেদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে এককভাবে কোটি টাকার সম্পদ দখল করেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই সম্পত্তিগুলো এখনো তার দখলেই রয়েছে।
এছাড়া, নোয়াখালীর গ্রামীণ এলাকায় বিদেশে পাঠানোর নামে অন্তত ১৭ জনের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে, যার বেশ কয়েকটি মামলা প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে।

অধ্যায় ৩: অস্ত্র ও বাহিনী পরিচালনা
সাবেক আওয়ামী সরকারের সময়, আলী হায়দার “হায়দার গ্রুপ” নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করতো। ওই বাহিনী স্থানীয়ভাবে অস্ত্র বহন, গুম-হামলা এবং ছাত্র আন্দোলন দমন কাজে ব্যবহৃত হতো।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় সে আনিসুর রহমান নাঈম ও জাপানি হান্নানের সঙ্গে মিলে খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকায় হামলার নেতৃত্ব দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই হামলায় গুলি চালানোসহ বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত ও নিহত হয়।
তবে শেখ হাসিনার পতনের পর আলী হায়দার কিছু সময় আত্মগোপনে ছিল এবং পরবর্তীতে মামলা এড়াতে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অধ্যায় ৪: সম্পদের পাহাড় ও ব্যবসায়িক মুখোশ
২০২৫ সালে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে—আলী হায়দার এখন খিলক্ষেতের বরুয়া এলাকায় একটি বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করছে। ওই বাড়িটি দখল করা জমির ওপর নির্মিত বলে স্থানীয়দের দাবি। বাড়ির নিচতলায় “হায়দার ফার্নিচার গ্যালারি” নামে একটি শোরুমও চালু করেছে সে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যবসাটি আসলে অর্থপাচার ও দলীয় তহবিল সরবরাহের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে আসা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এখন তার বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।
ঢাকায় সম্প্রতি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের লাগাতার মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অন্যতম উৎস হিসেবেও আলী হায়দারের নাম উঠে এসেছে।

অধ্যায় ৫: তদন্তের অগ্রগতি
অর্থপাচার, অস্ত্রধারী বাহিনী পরিচালনা, সম্পদ দখল ও বিদেশে প্রতারণার মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
তদন্তকারী একাধিক সংস্থার মতে, আলী হায়দারের নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয়। সে ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা এখনো তার পক্ষে তদবির করছে।
বিশেষ তদন্ত সূত্র বলছে—তার ব্যাংক লেনদেন, জমি ক্রয় ও ভাড়াবাবদ লেনদেনের রেকর্ড জব্দ করা হয়েছে, যা একটি বিশাল অঘোষিত সম্পদের ইঙ্গিত বহন করে।

আলী হায়দারের অপরাধচক্র আওয়ামী আমলে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের প্রতীক। রাষ্ট্র ও সমাজের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ধ্বংসে যারা ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম এই ব্যক্তি।
জনস্বার্থে তার অপরাধচক্রের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সম্পদ পুনরুদ্ধারের দাবি উঠেছে স্থানীয় পর্যায়ে।
যাদের কাছে আলী হায়দারের অপরাধ, সম্পদ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো তথ্য রয়েছে, তারা যেন নির্ভয়ে তা প্রকাশ করেন—এমন আহ্বান জানানো হয়েছে জনতার পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com


More News Of This Category
bdit.com.bd