ঈশ্বরদীতে প্রকৃত সন্ত্রাসী কে? ‘ইঞ্জিনিয়ার কাকন’ না কি ৬২ মামলার আসামী বিএনপি নেতা পিন্টু ও তার ভাইয়েরা?
২৬ জুলাই ২০২৫ | ঈশ্বরদী প্রতিনিধি
পাবনার ঈশ্বরদী ও নাটোরের লালপুরে বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বে নতুন মোড় নিচ্ছে। ‘ইঞ্জিনিয়ার কাকন বাহিনী’ নাম দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কিছু ভিডিওতে অভিযোগ উঠলেও, স্থানীয় জনগণ, মাঝি-জেলে, প্রশাসনিক সূত্র এবং থানার রেকর্ড বিশ্লেষণ করে উঠে এসেছে এক ভিন্ন বাস্তবতা—এই গুঞ্জন আসলে কারা সৃষ্টি করছে এবং কার স্বার্থে?
কাকন না কি পিন্টু বাহিনী? জনমনে প্রশ্ন

ঈশ্বরদী থানা ও আশপাশের এলাকায় যাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে, তারা হলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু এবং তার ভাই মেহেদী হাসান ও সোনামনি। এ তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে মোট ৬২টি ফৌজদারি মামলা, যার মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্র, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ ভয়ংকর অভিযোগ।
ইঞ্জিনিয়ার কাকনের পেশাগত পরিচয় ও ভূমিকা
‘ইঞ্জিনিয়ার কাকন’ নামে পরিচিত ব্যক্তি ১৯৯৪ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং ২০০৭ সালে যান দুবাইয়ে। প্রবাস জীবন শেষে ফিরে এসে বৈধভাবে বালু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। গত পাঁচ বছর ধরে জেলা প্রশাসনের ইজারায় বৈধভাবে বালুমহাল পরিচালনা করছেন তিনি।

১৪৩২ বাংলা সনে নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার দিয়ার বাহাদুরপুর মৌজার বালুমহাল তিনি ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় ইজারা নেন, যা রাষ্ট্রীয় রাজস্বে বড় অবদান।
‘কাকন বাহিনী’ অপপ্রচার: কারা চালাচ্ছে এই নাটক?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা বলেন—
> “আমি ১৫–১৬ বছর ধরে ঈশ্বরদীতে রাজনীতি করছি, কখনো ‘কাকন বাহিনী’ নামে কিছু শুনিনি। এই শব্দ হঠাৎ কোথা থেকে এলো, এটা ভাবনার বিষয়।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীপথে চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ার পর থেকেই ইঞ্জিনিয়ার কাকনের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা শুরু করে বিএনপি নেতা পিন্টু ও তার অনুসারীরা।
থানার তথ্য কী বলছে?
ইঞ্জিনিয়ার কাকনের বিরুদ্ধে মামলা মাত্র ২টি, তাও পিন্টুর ভাই মেহেদী বাদী হয়ে দায়ের করেছেন ৩১ মে ও ৭ জুন ২০২৫ তারিখে।
লালপুর ও ভেড়ামারা থানায় কাকনের নামে কোনো মামলা নেই।
অন্যদিকে—
জাকারিয়া পিন্টু ও ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা ৬২টি।
এর মধ্যে রয়েছে ১৬টি হত্যা মামলা, এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ: অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা।
মামলা নথিভুক্ত ঈশ্বরদী ও লালপুর থানায়।
চাঁদাবাজির সরাসরি অভিযোগ
রাজশাহী-আরিচা নৌপথে বিআইডব্লিউটিএ’র অধীনে ৫ কোটি ৩১ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠান ‘গ্রুপঅন সার্ভিসেস প্লান লিমিটেড’ অভিযোগ করেছে,
> “১ জুলাই সাঁড়াঘাটে বৈধভাবে খাজনা আদায় করতে গেলে বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু ২৫% চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় আমাদের লোকজনকে অপহরণ করে মারধর করা হয়, এমনকি হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়।”
সন্ত্রাস, ড্রোন নজরদারি ও অস্ত্রের মহড়া
স্থানীয় মাঝি-জেলে ও কৃষকদের সাক্ষ্য বলছে—
> “পিন্টুর ভাই মেহেদী প্রতিনিয়ত অস্ত্রসহ স্পিডবোট নিয়ে নদীতে মহড়া দেয়, ড্রোন দিয়ে নজরদারি করে। জেলেদের মাছ কেড়ে নেয় এবং অবৈধভাবে বালু তুলে রাজস্ব ফাঁকি দেয়। উল্টো কাকন চাচার উপস্থিতি আমাদের নিরাপত্তা দেয়।”
তারা আরও জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে বিএনপির এক কর্মীকে সোনামনি গুলি করলেও তার অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, হয়নি কোনো গ্রেফতার।
প্রশাসনের নীরবতা ও আইনের প্রশ্ন
এতসব গুরুতর অভিযোগ, এতগুলো মামলা—তারপরও কিভাবে পিন্টু বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়?
কেন তাদের বারবার জামিন হয়?
কেন প্রশাসন চুপ?
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটেই তারা আইনের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
—
উপসংহার: সত্যের মুখোমুখি বাস্তবতা
সব তথ্য, মামলা, প্রশাসনিক রেকর্ড, স্থানীয় সাক্ষ্য এবং বাস্তবতা একটিই ইঙ্গিত করে—
ঈশ্বরদী ও লালপুর এলাকায় প্রকৃত সন্ত্রাসী ও দখলদার চক্র হলো বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইয়েরা।
ইঞ্জিনিয়ার কাকনের বিরুদ্ধে প্রচার—একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক অপপ্রচার, যা বালুমহালের দখল ও চাঁদাবাজির স্বার্থে চালানো হচ্ছে।
সচেতন মহলের আহ্বান
প্রশাসন ও মিডিয়ার প্রতি আবেদন—এই অপপ্রচারের আড়ালে থাকা শক্তিগুলোর মুখোশ খুলে, সঠিক তথ্য উদঘাটন ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
প্রকাশিত: ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার: পাভেল ইসলাম মিমুল